হেফাজতকে রাজাকার বললেন জয়, প্রতিবাদে আলেমরা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ ‘হেফাজত নতুন রাজাকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে’ বক্তব্য দেয়ার পর ইসলামি সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বলছে, যদি তারা ক্ষমতায় আসে তাহলে ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।

শুক্রবার রাতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার বক্তব্যে বলা হচ্ছে, একাত্তরে জামায়াত ইসলামের ভূমিকা এখন হেফাজতে ইসলাম নিচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস এর মহাসচিব মামুনুল হক, একই সাথে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন ভাস্কর্য বিরোধিতার সাথে রাজাকার হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

মি. হক বলছেন “ভাস্কর্য বিষয়ের সাথে রাজাকারের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি না। কুরআন,সুন্নাহ আলোকে ভাস্কর্য বা মূর্তি বা যেকোন প্রাণীর দেহ বিশিষ্ট অবয়ব সেটা ইসলাম গ্রহণ করে না। এটা রাজাকারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না”।

বাংলাদেশের ঢাকার ধোলাইপাড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর কট্টর অবস্থানের কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর টানাপোড়েন শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকতে হলে বাংলাদেশের সংবিধান মানতে হবে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে, আর ইসলামী দলগুলো ইসলামী অনুশাসন চাচ্ছে। মি. হানিফ বলছেন ‘তারা একাত্তরের রাজাকারদের মানসিকতায় পোষণ করে’।

“মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হলে আগে আপনাকে সংবিধান মানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছিলাম স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সংবিধান, সেই সংবিধানে যেগুলা আছে সেগুলাই তো মানে না। এরা একাত্তরে রাজাকার ছিল, এখনো আছে। সেই মন-মানসিকতায় পোষণ করে” বলছিলেন মি. হানিফ।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস নামে একটি ইসলামি সংগঠন বলছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার অবকাশ থাকবে না। সংগঠনটির মহাসচিব মামুনুল হক, যিনি একই সঙ্গে হেফাজতের ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব, তিনি বলছেন, তারা একটা নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে রাজনীতিতে আছেন।

যদি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ইসলামী আইন অনুসারে দেশে ভাস্কর্য রাখার অবকাশ থাকবে না। তিনি বলছেন “আমি একটা নিবন্ধিত সংগঠন খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্বে আছি, আমরা তো রাজনীতি করছি।

আমাদের অনেকগুলো ইসলামী সংগঠন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধিত হয়ে রাজনীতি করছে। আমাদের সকলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ঘোষণা হল আমরা দেশে রাষ্টীয় পর্যায়ে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হলে, ইসলামি হুকুমত বাস্তবায়িত ত হলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার কোন অবকাশ থাকবে না” বলছিলেন মামুনুল হক।

এদিকে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি এক বিবৃত্তিতে বলছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ভাস্কর্য বিরোধিতাকে কোন ধর্মীয় নয় বরং পরিপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নিয়েছে।-বিবিসি বাংলা।

Check Also

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে দেশ ও রাজনীতি ছাড়ছেন খালেদা !

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে এখন বিচ্ছিন্ন । কারাবরণে তিন বছর পূর্ণ …