হ’ঠাৎ যেকারনে হার্ডলাইনে বিএনপি

যেটি ধারণা করা হচ্ছে সেটিই হলো। বিএনপি ক্রমশ সরকারবি’রো’ধী আ’ন্দোলনে হার্ডলাইনে চলে যাচ্ছে। আজ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের ঘো’ষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি`র সেই হার্ডলাইনের ধারা আরো স্পষ্ট হলো। কিছুদিন ধ’রে বিএনপির মধ্যে মতদ্বৈ’ধতা চলছিল।

বিএনপির একটি বড় অংশই এখন মনে করছে সরকারের বি’রু’দ্ধে বড় ধ’রনের আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বাঁ’চার কোনো বিকল্প পথ নেই। আর এ কারণেই বিএনপির ভি’তর থেকে আন্দো’লনের চা’প ছিল। বিএনপির ভি’তরে যারা সরকারের সাথে একটি সমঝোতা করে চলার নীতিতে ছিল, তারা ক্র’ম’শ কো’ণঠা’সা হয়ে প’ড়েছিল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবসময় বিএনপিতে নমনীয়দের মধ্যে ছিলেন এবং সরকারের সাথে সুস’স্পর্ক রেখে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শ’ক্তি’শালী করাই ছিল তার প্রধান কৌ’শল। এ কারণেই বিএনপি ২০১৮ নির্বাচনে বি’প’র্য’য়ের পরও বিএনপি আবার সবগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছিল।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শ’ক্তিশালী ক’রতে চাইছে। কিন্তু এখন সেই অব’স্থান থেকে বিএনপি সরে দাঁড়ালো এবং তারা বলছে যে, এই নির্বাচনগুলোতে যেরকম কা’রচু’পি এবং অনিয়ম হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে তাদের পক্ষে এই নির্বাচনে আর অংশগ্রহণ করা সম্ভব না।

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপি হার্ডলাইনে যাওয়ার পিছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। সরকারকে চা’পে ফেলা: বিএনপি মনে করছে যে, সরকারের সাথে সমঝোতা করার চেয়ে সরকারকে আ’ন্দোলনের মাধ্যমে চা’পে ফেললে সরকারের কাছ থেকে দা’বি আদায়ে অনেক সহজ হবে। কারণ ঘরে বসে চুপ’চা’প থাকলে বা চু’প’চা’প থেকে সরকারের সাথে দেন-দরবার করলে কিছুই অর্জন করা যায় না, এটা বিএনপি বুঝতে পেরেছে। এজন্য আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারকে চা’পে রাখার কৌশল হিসেবে বিএনপি এই হার্ডলাইনে যাচ্ছে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

২। নানা স’মস্যায় সরকার: বিএনপি মনে করছেন ১২ বছর বয়সি আওয়ামী লীগ সরকার এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে স’বচেয়ে বেশি চা’পের মধ্যে রয়েছে। নানা রকম সং’’ক’ট এবং স’মস্যার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দূ’র্ণী’তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব’ন্ধ রাখা, ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইন, মানবাধিকার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের উপর নানারকম চা’প পরছে। আর এই চা’পের কারণে এখন যদি সরকার বি’রো’ধী আ’ন্দো’লন করা যায় তাহলে সেই আন্দো’লনে একটি ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

৩। আন্তর্জাতিক মেরুকরণ: বিএনপি মনে করছে যে, আন্তর্জাতিক অ’ঙ্গনে যে মেরুকরণ হচ্ছে, সেই মেরুকরণ আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাচ্ছে। বিশেষ করে এখন পশ্চিমা দেশগুলো এবং মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যপারে যে অন্ধ সমর্থন ছিল, সেই সমর্থন তাদের কমে এসেছে। ইতিমধ্যে ডিজিটাল নি’রাপ’ত্তা আ’ইন এবং মুশতাকের মৃ’’ত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক অ’ঙ্গনে সরকারের স’মালোচনা হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষিতে বিএনপি মনে করছে যে, আন্দোলনের এখনই সময়।

৪। বিএনপির ঘর গোছানো: বিএনপিকে আন্দো’লনের যেতে হচ্ছে নিজে’র ঘর গোছানোর জন্য। কারণ বিএনপির মধ্যে আন্দোলনের পক্ষের শ’ক্তি এত শ’ক্তিশালী হয়ে উঠছে, এখন যদি বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব আন্দোলন না করে তাহলে বিএনপি ভা’ঙ্গনের মু’খোমুখি পরবে। আর এই ভাঙ্গন ঠে’কানোর জন্যই বিএনপিকে হার্ডলাইনে যেতে হচ্ছে।

৫। সাংগঠনিক শ’ক্তি বৃ’দ্ধি: দেখা যাচ্ছে যে, ক’র্মী রা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই সংগঠনকে শ’ক্তিশালী ক’রতে চায়। বসে থেকে সংগঠন শ’ক্তিশালী হয়না। এই জন্যই বিএনপি মনে করছে যে আন্দো’লনের কোন বিকল্প নেই। এই জন্যই তারা হার্ডলাইনে যেতে চাইছে।

আর এই সব মিলিয়েই বিএনপি এখপ্ন রাজনীতিতে একটি অনড় অব’স্থানে চলে যেতে চাইছে। কিন্তু এই সাংগঠনিক শ’ক্তি নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কতটুকু এরকম অব’স্থানে থাকতে পারবে সেটিই দেখার বিষয়।

— বাংলা ইনসাইডার

Check Also

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে দেশ ও রাজনীতি ছাড়ছেন খালেদা !

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে এখন বিচ্ছিন্ন । কারাবরণে তিন বছর পূর্ণ …