রিক্সা চালক বাবার স্বপ্নপূরণ, মেয়ে মান্য সিংয়ের মাথায় উঠলো মিস ইন্ডিয়ার ‘মুকুট’

তেলেঙ্গানার ইঞ্জিনিয়ার মনসা বারাণসীর (Manasa Baranasi) মাথায় উঠল VLCC ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড ২০২০-এর মুকুট। গত বুধবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বেছে নেওয়া হল দেশের সেরা তিন সুন্দরীকে। যাঁরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এদিন এই প্রতিযোগিতায় হরিয়ানার মনিতা শিখন্ড হলেন মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া আর সব লাইমলাইট ছিনিয়ে নিলেন মান্য সিং যিনি সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হলেন।

বুধবার রাতেই বিজয়ীর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন ২০১৯ সালে রাজস্থান থেকে হওয়া মিস ইন্ডিয়া সুমন রতন সিং রাও। জর্জ হিসেবে ছিলেন নেহা ধুপিয়া, চিত্রাঙ্গদা সিং, পুলকিত সম্রাট এবং বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার জুটি ফাল্গুনি ও শেন পিকক। শুধু সৌন্দর্য নয়, নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়েও বিচারকদের মন জিততে হয়েছে এই সুন্দরীদের।

কিন্তু জানেন কি, কে এই মান্য সিং? কি তাঁর পরিচয়? জানা যায় উত্তরপ্রদেশে তাঁর বাবা রিকশা চালকের কাজ করতেন৷ একসময় দুবেলা খাবার জুটত না ঠিকমতো তাঁর। আধপেটা খেয়ে যখন ঘুমোতে যেত ছোট্ট মেয়েটি, তখন ঘুমও আসত না খিদের জ্বালায়। এক দিন অভাব-অনটনের জেরে স্কুলের পড়াও বন্ধ হয়ে গেল। বাবা অটোচালক, কটাকাই বা রোজগার! বছর ১৪ বয়সে বাড়ি থেকে দে ছুট। সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজকের ভারত সুন্দরী মান্যা সিং। উত্তরপ্রদেশের এই কন্যা বিচারকদের প্রশ্নের উত্তরে মুগ্ধ করে পেয়েছেন রানার্স আপ এর শিরোপা। ফলে এ বার মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তিনি ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মান্যা বলেন ‘আমার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জলই আমাকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জুগিয়েছে’। তিনি দিনে পড়াশোনা, সন্ধ্যায় বাসন মেজে উপার্জন করে এবং রাতে কল সেন্টারে কাজ করে পড়াশোনা শেষ করেন। অসংখ্য বিনিদ্র রজনী এবং অপরিসীম পরিশ্রমের ফসল একেবার হাতেনাতে পেলেন মান্য৷

এই সাফল্যের পথে হাঁটতে কী অপরিসীম লড়াই তাঁকে করতে হয়েছে তা নিজেই জানিয়েছেন মান্য৷ মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে সেই লড়াইয়ের গল্প বলে আরও মেয়েদের মধ্যে লড়াইয়ের রসদ দিলেন তিনি৷

Check Also

যে গ্রামে পুরুষের প্রবেশ, বসবাস নিষিদ্ধ!

বছর পনেরো আগের কথা। রোজালিনা লিয়ারপুরা তখন ছোট্ট শিশু। তিন বছর বয়স। বাবাকে সে কখনোই …