রাসায়নিক প্রসাধনী ছাড়া খুশকি তাড়ানোর ১০টি কার্যকর উপায়

খুশকি দূর করার জন্য এখন আর দামি প্রসাধনী সামগ্রী কিনে পকেট ফাকা করার প্রয়োজন নেই। এমন অনেক ঘরোয়া উপায় আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনার খুশকিও দূর হবে, পকেটের টাকাও পকেটে থাকবে।

তাই লেখাটিতে চোখ বুলিয়ে নিন এবং দেখুন কিভাবে রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই আপনার চুল খুশকিমুক্ত করা সম্ভব।

১. কমলার খোসার সাথে লেবুর রস

কমলার খোসায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, এবং ডায়েটারি ফাইবার যা আপনার দেহে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। খুশকি দূর করার জন্য কীভাবে কমলার খোসা ও লেবুর রস ব্যবহার করবেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

ক. কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে একটা পাত্রে রাখুন। তাতে লেবুর রস মিশেয়ে দিন।

খ. বেটে বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন।

গ. এই পেস্ট 30 মিনিট মাথায় লাগিয়ে অপেক্ষা করুন।

ঘ. এরপর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ও চুল ধুয়ে ফেলুন।

২. শ্যাম্পুর সাথে অ্যাসপিরিন

অ্যাসপিরিনে রয়েছে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড যা অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুতেও ব্যবহার করা হয়। ধারণা করা হয়, এটি খুশকির সাথে লড়াই করার অন্যতম কার্যকর একটি উপাদান। খুশকি তাড়ানো এবং অতিরিক্ত তেল দূর করার জন্য এই উপাদানটি কীভাবে ব্যবহার করবেন? একটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট মিহি গুড়া করে নিন এবং অল্প সামান্য পরিমাণ চুলে মাখার জন্য নেওয়া শ্যাম্পুতে মিশিয়ে নিন। এবার অ্যাসপিরিন মিশ্রিত শ্যাম্পু চুলে লাগিয়ে কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৩. মেথির পেস্ট

মেথির রয়েছে প্রদাহ-বিরোধী, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। মেথি ব্যবহার করে খুশকি তাড়াতে আপনাকে নিচের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

ক. একটি পাত্রে মেথি নিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন।

খ. ভেজানো মেথি সকালে বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন।

গ. এই পেস্ট আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলের গোঁড়ায় মেখে 30 মিনিট রেখে দিন।

ঘ. এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৪. কলার সাথে ভিনেগার

এই পেস্ট তৈরি করতে আপনার একটি বড় কল এবং দুই কাপ পরিমাণ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার প্রয়োজন হবে। প্রথমে কলা মথে নিয়ে তাতে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ঢেলে পেস্ট তৈরি করুন। এবার পুরো মাথায় এই পেস্ট লাগিয়ে 20 মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

৫. পুদিনা পাতা ও আমলকী গুড়া

ক. কিছু পুদিনা পাতা, 2 চা চামচ আমলকী গুড়া, এবং 2 চা চামচ পানি।

খ. এই উপাদানগুলো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

গ. এরপর পেস্টটি পুরো মাথায় মেখে 30 মিনিট অপেক্ষা করুন।

ঘ. এবার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

এই পেস্ট প্রতিদিন ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়াও কমে।

৬. নারিকেল তেলের সাথে লেবু

ক. 2 টেবিল চামচ নারিকেল তেল গরম করুন এবং সমপরিমাণ লেবুর রসের সাথে তা মিশিয়ে নিন।

খ. খুব আলতো করে এই মিশ্রণটি চুলে ও মাথার ত্বকে মেখে নিন।

গ. 20 মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।

৭. নিমের রস

ক. নিমপাতা বেটে বা ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।

খ. এই পেস্ট আপনার চুলে ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে 10 মিনিট অপেক্ষা করুন।

গ. এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন।

৮. সরিষার তেলের সাথে জোজোবা তেল

সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান। জোজোবা তেলও খনিজ উপাদানে ভরপুর এবং ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। 1 টেবিল চামচ সরিষার তেলের সাথে 1 টেবিল চামচ জোজোবা তেলের মিশ্রণে তৈরি মাস্ক খুশকি দূর করার জন্য খুবই কার্যকর। মিশ্রণটি আলতো করে চুলে ও মাথার ত্বকে মেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। যাদের সরিষার তেলে সমস্যা হয় তাদের এই মিশ্রণটি ব্যবহার না করার অনুরোধ রইলো।

৯. লেবুর রসের সাথে টক দই

টক দই সব ধরনের চুলের সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়। টক দইয়ের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে তা 20 মিনিট চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন এবং পরে তা হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

১০. মধুর সাথে রসুন

অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ঈস্ট উপাদানে সমৃদ্ধ রসুনের কয়েকটি কোয়ার সাথে 1 টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে বেটে বা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এখন এই পেস্ট চুলের গোঁড়ায় লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

Check Also

বিনা খরচে আজীবনের জন্য এলার্জিকে বিদায় জানান

মানবজীবনে এলার্জি কতোটা ভয়ঙ্কর তা যিনি ভুক্তভোগী শুধু তিনিই জানেন। এর উপশমের জন্য কতোজন কতো …