মেয়ে মানুষ সিগারেট খাচ্ছিলেন, তাই চড়াও হলেন বারেক (ভিডিও)

রাজশাহীর সার্কিট হাউস রোডের ফুটপাতে একটি মেয়ে প্রকাশ্যে সিগারেট খাচ্ছিলেন, তাই মেয়েটির ওপর চড়াও হলেন শহিদ হোসেন বারেক নামের এক ব্যক্তি। মেয়েটিকে উগ্র ভাষায় ভৎর্সনা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে। রবিবার রাতেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে সচেতন মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাজশাহী সার্কিট হাউসের পাশের ফুটপাতে বসে দুজন তরুণ-তরুণী ধূমপান করছিলেন। মেয়েটি শাড়ি ও ছেলেটি টি-শার্ট, প্যান্ট পরা ছিলেন। তাদের মধ্যে মেয়েটির হাতে জ্বলন্ত সিগারেট ছিলো। এ ঘটনা দেখে প্রথমে মধ্যবয়সী শহিদ হোসেন বারেক নামের স্থানীয় এক ঠিকাদার তাদের ওপর চড়াও হন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। বারেক উগ্র ভাষায় মেয়েটিকে ধমকাতে শুরু করেন। মেয়েটি প্রতিবাদ করে তাকে গলা নামিয়ে কথা বলতে বলেন। তার পরিচয় জানতে চান। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে আরো ১৫-২০ জন মানুষ জুটে যায়। সবাই একজোট হয়ে তরুণ-তরুণীকে ওই স্থান ত্যাগ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি এসে মেয়েটির পক্ষ নিলে তাকেও খারাপ ভাষায় কথা বলা হয়।

মেয়েটি তখন বলেন, সবাই তো এখানে প্রকাশ্যে ধুমপান করছেন। তাদের কেনো নিষেধ করছেন না। মেয়ে বলেই আমাকে বাধা দিচ্ছেন? তখন বারেক বলেন, হ্যা মেয়ে বলেই বাধা দিচ্ছি।

আরেকজন বলেন, এভাবে প্রকাশ্য মেয়ে মানুষ ধুমপান করলে তাদের পাড়ার মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাবে। ভদ্রভাবে উঠে যেতে বলছি, আপনারা উঠে যান।

তখন তরুণীর সঙ্গে থাকা তরুণ বলেন, সিগারেট ফেলে দেয়া হয়েছে। এখন তো ধুমপান হচ্ছে না। এখন বসে থাকতে আপত্তি কেনো?

তখন বারেক বলেন, এক মূহুর্ত এখানে বসা যাবে না। এখনই উঠে যান।

এক পর্যায়ে এই তরুণ-তরুণী উঠে যেতে বাধ্য হন। যাওয়ার সময় মেয়েটি পেছন ফিরে তাকান। তা দেখে প্রথম আক্রমণকারী আরেকজন লোক চেঁচিয়ে বলেন, আবার ট্যারা চোখে তাকাচ্ছে।

জানা গেছে, শহিদ হোসেন বারেক ছাত্রলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ছিলেন। পরে তিনি দুইবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ভোট করে তার ফলাফল ভরাডুবি হয়। এতে দুইবারই তার জামানত হারাতে হয়। বর্তমানে তিনি ঠিকাদারি করেন।

জানতে চাইলে শহিদ হোসেন বারেক বলেন, একজন মেয়ে মানুষ প্রকাশ্যে সিগারেট খাচ্ছিলো। এতে খারাপ দেখা যাচ্ছিলো। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিলো। পাড়ার মেয়েরা খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই ভালোভাবে নিষেধ করেছি। উঠে যেতে বলেছি।’

পুরুষদের সিগারেট খেতে নিষেধ করেন না কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। ছেলেদের নিষেধ করা যায় না। কিন্তু মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট খেলে খারাপ লাগে।

নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে না। আপনার কি মনে হয়, আমি খারাপ কিছু করেছি? একজন সাংবাদিক হয়ে আমাকে এ প্রশ্ন করেন কিভাবে? প্রশ্ন করেই নামাজে যাবে বলে ফোন কেটে দেন বারেক। নামাজের পর অসংখ্যবার ফোন করলেও বারেক আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানতে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে।

Check Also

বাস স্ট্যান্ডের পাশে পড়েছিল বস্তাভর্তি টাকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে বনপাড়া বাজারে পাবনা বাস স্ট্যান্ডের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি টাকার বস্তা পাওয়া গেছে। …