মৃত্যুর ২৮ দিন পর স্ত্রী-কন্যার কাছে ফিরলেন মনির

দীর্ঘ ২৮ দিন পর স্ত্রী-কন্যার কাছে ফিরেছে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা প্রবাসী মনির হোসেনের মরদেহ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ও শ্যালক তানভীর আহাম্মেদ টিটুর আর্থিক সহযোগিতায় ২৮ দিন পর দেশে ফিরেছে প্রবাসী মনির হোসেনের মরদেহ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালের মর্গে প্রায় এক মাস ধরে পড়ে ছিল নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা প্রবাসী মনির হোসেনের মরদেহ। স্বামী হারানোর শোক আর অর্থের অভাবে মরদেহ আনতে পারছিলেন না মনির হোসেনের স্ত্রী ঝর্না বেগম।

দুবাইয়ের মাটিতেই স্বামীকে দাফন করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ পরিষদকে সিদ্ধান্ত জানিয়েও দিয়েছিলেন। তবে স্বামীকে এক নজর দেখার আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে ঝর্নার।

২০১৭ সালে দুবাই যান মনির। গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে স্ত্রী ঝর্না বেগমের সঙ্গে শেষ বারের মতো কথা হয়েছিল প্রবাসী মনির হোসেনের। ঝর্নার সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে মনির হোসেনের।

গত ১২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান স্বপরিবারে দুবাই যান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার শ্যালক নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভির আহম্মেদ টিটু। মনিরের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন দুবাইয়ের ‘নারায়ণগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ’।

শামীম ওসমান, লিপি ও তানভির আহম্মেদ টিটু ৩ জনের সহযোগিতায় প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মরদেহটি দেশে পাঠানো ব্যবস্থা করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর রাতে মনিরের মরদেহ দুবাই থেকে একটি বিমানে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে মনিরের পরিবারে কাছে মরদেহটি এসে পৌঁছায়।

দীর্ঘ ২৮ দিন পর স্ত্রী-কন্যার কাছে ফিরেছে মনির। শেষ বারের মতো বিদায় দিতে পারছে; আপন জন হারানোর কঠিন শোকের মাঝেও যেন আকাঙ্ক্ষা পূরণের পরম শান্তি পাচ্ছেন মেয়ে মিম আক্তার ও স্ত্রী ঝর্না বেগম।

মনির হোসেনের মেয়ের জামাতা প্রবাসী মাসুদ হোসেন বলেন, শামীম ওসমান ও তার পরিবারের একান্ত সহযোগিতায় শ্বশুরের মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। প্রবাসীদের অংশগ্রহণে দুবাইয়ে জানাজা হয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর রাতে পঞ্চটিতে মনিরের মরদেহ এসে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে রাতে মাসদাইর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

মনির হোসেনের স্ত্রী ঝর্না বেগম জানান, তার জীবনের অনেক বড় ইচ্ছে পূরণ করেছেন শামীম ওসমান-সালমা ওসমান লিপি ও তানভির আহম্মেদ টিটু।

তিনি বলেন, তাদের এই ঋণ কখনো পরিশোধ করতে পারবো না। শুধু দোয়া করতে পারবো, আল্লাহ যেন তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

Check Also

ধেয়ে আসছে বিশালাকার গ্রহাণু

একটি বিশালাকার গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এটি পৃথিবীর …