মাঝ আকাশে হেলিকপ্টারে আগুন লেগে মৃত্যু হয় অমিতাভ বচ্চনের নায়িকার

দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে আগেই খ্যাতি পেয়েছিলেন। বলিউডেও পা রেখেছিলেন অমিতাভের বিপরীতে। সবে কেরিয়ারটা বিস্তৃত হতে শুরু করেছিল। কিন্তু আচমকাই সব থামিয়ে দিল এক বিমান দুর্ঘটনা। মাত্র ৩১ বছর বয়সে প্রয়াত হন অভিনেত্রী সৌন্দর্য। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি তার খ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে।

তিনি বিগ বি এর বিপরীতে বলিউডের প্রথম পা রাখেন। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তিনি প্রথম সুযোগ পান ১৯৯৯ সালে ‘সূর্যবংশম’ সালে। এই ছবিটিতে তাকে ‘রাধা’ নামের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। অসাধারণ অভিনয়ের অধিকারী এই অভিনেত্রী। অমিতাভ বচ্চনের নায়িকা হয়েছিলেন তিনি।

একজন নারী একজন পুরুষের পাশে থাকলে সেই পুরুষ সবকিছু জয় করতে পারে এক নিমেষে, এই বিশেষত্ব ছিল এই মুভির। তবে টলিউডের আরেক জনপ্রিয় নায়িকা রচনা ব্যানার্জি এই মুভির এক পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বলিউডে প্রথম পা রেখেই এই সৌন্দর্য অভিনয়ের দিকে দিয়ে বাজিমাত করে দেন ‘সূর্যবংশম’ ছবির মাধ্যমে। এখনও যেনো যুব সমাজকে আকর্ষণ করে সৌন্দর্যের অভিনয়।

সৌন্দর্যর জন্ম মহীশূরে, ১৯৭২ সালের ১৮ জুলাই। পরিবারের তরফে তাঁর নামকরণ হয় কে এস সৌম্য সত্যনারায়ণ। পরে ছবিতে অভিনয়ের সময় তিনি নাম পাল্টে ফেলেন। সৌন্দর্যর বাবা চিত্রনাট্য লেখক-প্রযোজক হলেও তাঁর নিজের কোনও দিন নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। বরং সৌন্দর্যর ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হবেন। তিনি এমবিবিএস কোর্সে ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম বর্ষের পরেই পড়া ছেড়ে দেন।

পরিবর্তে তিনি ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। কন্নড় ভাষায় তাঁর প্রথম ছবি ‘গন্ধর্ব’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। ধীরে ধীরে তামিল এবং তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রথম সারিতে চলে আসেন সৌন্দর্য। বলা হয়, জনপ্রিয়তার নিরিখে প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী সাবিত্রী গণেশনের পরেই তাঁর স্থান। সৌন্দর্যকে বলা হত ‘আধুনিক তেলুগু ছবির সাবিত্রী’। এরপর তিনি ‘দীপা’ (Dweepa) ছবিতে অভিনয় করছেন ২০০৩ সালে। এই ছবিটি কন্নড় ভাষায় মুক্তি পায়। জাতীয় পুরস্কারজয়ী হয় এই ছবিটি।

তেলুগু ছবিতে ডাগ্গুবতী ভেঙ্কটেশ এবং সৌন্দর্যর জুটি ছিল দর্শকদের খুবই পছন্দের। এরপর ২০০৩ সালে তিনি জি এস রঘুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জি এস রঘু একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র, কিন্তু তিনি ইন্ডাস্ট্রির কেও কি ছিলেন না। এরপর তিনি রাজনীতিতে যোগদেন যখন তার ক্যারিয়ার আকাশ ছোঁয়া। তিনি বিজেপিতে নাম লেখান।২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল বেঙ্গালুরু থেকে করিমনগর যাচ্ছিলেন সৌন্দর্য এবং তাঁর ভাই। যে সেসনা ১৮০-তে উড়ানে তাঁরা যাত্রা করেছিলেন, সেটি যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ভেঙে পড়ে গাঁধী কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে।

মাটি থেকে ১০০ ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত অবস্থাতেই আগুন ধরে যায় এয়ারক্র্যাফ্টে। দুর্ঘটনায় মারা যান সৌন্দর্য এবং তাঁর ভাই। বিয়ের ২ মাস আগে নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উইল করেছিলেন তিনি। যা তাঁর মৃত্যুর আট বছর পর সামনে এসেছে। যদিও এই সম্পত্তির এক বড়ো অংশ রেখেছিলেন তাঁর হবু স্বামী এবং নিজেদের সন্তানদের জন্য এবং তাঁর বাকি সম্পত্তি দিয়ে গেছিলেন মা এবং ভাইয়ের পরিবারকে। যদিও এখন এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছে।

Check Also

সালমান খানের ক্যারিয়ার শেষ করে রাস্তায় নামাবেন তিনি!

কিছুদিন আগেই চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল রশিদ খানের নামে মামলা করেছেন ‘রাধে’ অভিনেতা সালমান খান। এবার …