ভা’রসাম্যহীন নারীকে ১১ বছর লালনের পর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিলেন যুবক

দীর্ঘ ১১ বছর মানসিক ভা’রসাম্যহীন এক নারীকে আদর-যত্নে লালন-পালন করে অবশেষে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক যুবক। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজে’লার ধুবরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মানুষের মধ্যে মানবতা যে এখনো বিদ্যমান তা আবারো প্রমান করলেন নাগরপুর উপজে’লার ধুবড়িয়া গ্রামের মৃ’ত আব্দুল খালেকের ছে’লে আসাদুজ্জামান রনি।

বৃহস্পতিবার মো. জাকিরুল ইস’লাম নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার অফিসে পরিবারের হাতে ওই নারীকে তুলে দেয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যদের দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী।

জানা গেছে, মানসিক ভা’রসাম্যহীন ওই নারীর নাম দুর্গা রানী। তার বর্তমান বয়স ২৫ বছর। দুর্গার স্বামী রমেশের বাড়ি দিনাজপুরের সস্তীতলা শহীদুল কলোনিতে। বাবার বাড়ি বগুড়া জে’লার সান্তাহারের সুইপার কলোনিতে। দুর্গা রানী ওই কলোনির রতন হরিজনের মে’য়ে।

নি’খোঁজ হওয়ার সময় দূর্গার বয়স ছিল ১৫ বছর। ফেসবুকে পোস্ট করার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়ার প্রায় এক যুগ পর দিনাজপুরের দূর্গা ফিরে পেল তার পরিবার।

আসাদুজ্জামান রনি বলেন, মানসিক ভা’রসাম্যহীন মে’য়েটিকে ২০১০ সালের দিকে ধুবড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে দেখি। মে’য়েটিকে তার নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করলে সে কিছুই বলতে পারছিল না। তখন আমি তাকে আমা’র বাড়িতে এনে আশ্রয় দেই। আমি নাম পরিচয়হীন মে’য়েটির নাম দেই লাইলী। সেই সাথে মে’য়েটিকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আপ্রা’ণ চেষ্টা করতে থাকি।

দূর্গা দীর্ঘ আট বছর কোনো প্রকার কথা বলতে পারেনি। তার পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালাতে থাকেন রনি। কোনো উপায় না পেয়ে রনি ফেসবুকে মে’য়েটির সন্ধান পেতে ছবিসহ একটি পোষ্ট দেন। ফেসবুকের কল্যাণে মে’য়েটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, অবশেষে দীর্ঘ ১১ বছর পর এলাকার মানুষের সহযোগিতায় বিশেষ করে আওলাদ হোসেন লিটন ভাইয়ের মাধ্যমে মে’য়েটির পরিবারের সন্ধান পাই।

এদিকে স্ত্রী’কে ফিরিয়ে নিতে আসা রমেশ জানান, হারিয়ে যাওয়ার আগে কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেয় দুর্গার। তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরই মাঝে ১১ বছর আগে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হন তার স্ত্রী’। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

হারিয়ে যাওয়া ভা’রসাম্যহীন বোন দুর্গাকে ফিরে পেয়ে ভাই নাদিম হরিজন, আরমান হরিজন, শাকিল হরিজন, প্রদীপ হরিজন, রিপন হরিজন আশ্রয়তাদা রিপনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে রনি ভাই আমাদের বোনকে স্বযত্নে লালন-পালন করে আজ আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এটা মানবতার এক অনন্য উদাহ’রণ। আমাদের বোনকে ফিরে পেয়ে আম’রা খুবই আনন্দিত। রনি ভাইকে ধন্যবাদ দেয়ার ভাষা আমাদের জানা নেই।

রনি জানান, মে’য়েটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি। মে’য়েটি যেন বাকি জীবনটা তার পরিবারের সঙ্গে সুখে-শান্তিতে কা’টাতে পারে, সৃষ্টিক’র্তার কাছে সেই প্রার্থনা করেন। শুধু তাই নয়, দুর্গার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নাগরপুর উপজে’লা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আওলাদ হোসেন লিটন বলেন, আম’রা যে কাজটি করতে পারিনি রনি তা করে দেখিয়েছেন। মানবতা আজও বেঁচে আছে এটা তারই সাক্ষ্য বহন করে।

নাগরপুর থা’নার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমিনুল বলেন, মানবতার কাছে পৃথিবীর সব আইন তুচ্ছ। রনি ভাইয়ের মানবতায় ভা’রসাম্যহীন মে’য়েটিকে তার পরিবার ফিরে পেয়েছে। সত্যিই এটা মানবতার এক অনন্য উদাহ’রণ।

Check Also

বাস স্ট্যান্ডের পাশে পড়েছিল বস্তাভর্তি টাকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে বনপাড়া বাজারে পাবনা বাস স্ট্যান্ডের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি টাকার বস্তা পাওয়া গেছে। …