বিমানে বসে বাবা কেঁদে ফেলেন: আব্দুল কাদেরের পুত্রবধূ

‘আমাদেরকে রেখে বাবা কখনো দেশের বাইরে যাননি। পরিবার ছাড়া কখনো কোথাও যাননি তিনি। ভারত থেকে ফেরার পথে বিমানে বসে বাবা কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘এটাই মনে হয় তোমাদের সঙ্গে শেষ যাত্রা।’ আমি বললাম, বাবা কেন এটা শেষ হবে? আমরা আরো একসঙ্গে দেশের বাইরে ঘুরতে যাব।’’— আলাপকালে কথাগুলো বলেন বরেণ্য অভিনেতা আব্দুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন আব্দুল কাদের। ভারতের চেন্নাইয়ের ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রোববার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ নগরীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আব্দুল কাদেরকে। সেখানে ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদের তত্ত্বাবধায়নের চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

আব্দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সবসময়ই পাশে রয়েছেন তার পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম। পুত্রবধূ হলেও আব্দুল কাদের তাকে মেয়ের মতো ভালোবাসেন। বিষয়টি উল্লেখ করে জাহিদা ইসলাম বলেন—‘‘আমি তো ছেলের বউ। কিন্তু বাবা কখনো আমাকে ছেলের বউ হিসেবে দেখেননি। সবসময় নিজের মেয়ে ভাবেন। আসলে আমার বাবা নেই। বাবা মারা যাওয়ার পরই আমার বিয়ে হয়। তারপর থেকে এই পরিবারই আমার সবকিছু। আসলে আমার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সবকিছু ওনারাই করিয়েছেন। ভারত থেকে ফেরার পথে বিমানে পাইলট, এয়ার হোস্টেসরা বিশ্বাসই করতে চাননি আমি ছেলের বউ। তারা সবাই ভেবেছিলেন আমি তার মেয়ে। এয়ার হোস্টেসরা বলেন, ‘এই যুগে এসেও এটা কি সম্ভব?’’

আব্দুল কাদেরের নাতনি সিমরিন লুবাবা শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে কাজ করছেন। তার অভিনয়ের হাতেখড়ি দাদু আব্দুল কাদেরের কাছে। দাদু অসুস্থ হওয়ায় তার কান্না যেন থামছেই না। এমনকি শুটিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছে সিমরিন। কারণ দাদুকে ছাড়া শুটিংয়ে যাবে না সে। বিষয়টি স্মরণ করে জাহিদা ইসলাম বলেন—‘আমাদের মেয়ে সিমরিন ও বড় ছেলেটা বাবার কলিজার টুকরা। সিমরিন তো সবসময় কান্নাকাটি করে। যখনই শুনেছে, তার দাদুর ক্যানসার তারপর থেকেই সে ইন্টারনেট ঘেঁটে নানা তথ্য সংগ্রহ করছে। কী খেলে তার দাদু শরীরে শক্তি পাবেন, কী খেলে দাদুর হিমোগ্লোবিন বাড়বে। এর মধ্যে একটি কাজের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু দাদুকে ছাড়া শুটিং করবেন না বলে পরিষ্কার জানায় সিমরিন।’

আব্দুল কাদেরের বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানিয়ে রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে জাহিদা ইসলাম বলেন—‘এখন শারীরিক অবস্থা একটু ভালো। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে এসে ডাক্তার বাবাকে দেখবেন। আমরা এ বিষয়ে সোমবার দুপুরের পর বিস্তারিত জানাতে পারব। চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চিকিৎসা চলবে কিনা সেটাও এই চিকিৎসকের উপর নির্ভর করছে। ওনার কী সিদ্ধান্ত নেন তা জানার অপেক্ষায় আছি। তাছাড়া বাবা শারীরিকভাবে দুর্বল। যার কারণে অনেক সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসকরা।’

আব্দুল কাদের মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। যার কারণে মাঝে মধ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানিয়ে জাহিদা ইসলাম বলেন—‘‘সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাম এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি তো এখন অনেকটা ভালো। এ বিষয়টি বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। বাবা কান্নাকাটি করেন। বাবা তার পুরোনো বন্ধু-পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তারা ফোন করলে খুব খুশি হন। ভিডিও কলে কথা বলতে চান। বাবা বলেন, ‘ক্যামেরা অন করো দেখে কথা বলি।’ বাবার বন্ধু-পরিচিতজনরাও সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করেন, বাবার সঙ্গে কথা বলেন।’’

পৃথিবীর অনেক কিছুই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তা স্মরণ করে জাহিদা ইসলাম বলেন—‘আমাদের সময়টা খুব টেনশনের মধ্যে কাটছে। আপনারা সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের দিকে ফিরে তাকান। কারণ পৃথিবীর সবকিছু মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে নাম লেখান আব্দুল কাদের। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারে কয়েকশ’ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।

আব্দুল কাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো—‘কোথাও কেউ নেই’, ‘মাটির কোলে’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তিন টেক্কা’, ‘বয়রা পরিবার’, ‘যুবরাজ’, সবুজ ছায়া’, ‘দীঘল গায়ের কন্যা’, ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘ফাঁপড়’, ‘চারবিবি’ প্রভৃতি।

Check Also

সালমান খানের ক্যারিয়ার শেষ করে রাস্তায় নামাবেন তিনি!

কিছুদিন আগেই চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল রশিদ খানের নামে মামলা করেছেন ‘রাধে’ অভিনেতা সালমান খান। এবার …