বাবাকে সব বলে দিতে চেয়েছিলো সামিউল, সেই বাবাও আজ নেই

মায়ের অ’নৈতিক স’ম্পর্ক দেখে বাবাকে বলে দিতে চেয়েছিলো পাঁচ বছরের শি’শু সামিউল। আর এরই জেরে মা এশা ও প্রে’মিক আরিফের দ্বারা খু’ন হতে হয় তাকে। পেরিয়ে গেলো এক দশক।

বাবার করা মা’মলায় আজ রোববার মা এশা ও তার প্রে’মিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় দিয়েছেন আ’দালত। কিন্তু এ রায় দেখে যাওয়ার সুযোগ হয়নি অভাগা বাবা আজমের।

রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের প্লে গ্রুপের ছাত্র ছিল খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফি। ২০১০ সালে ২৩ জুন সেই হাউজিংয়েই শ্বা’সরোধ করে হ’ত্যা করা হয় তাকে। পরের দিন একই এলাকা থেকে তার বস্তাব’ন্দি অবস্থায় লা’শ উ’দ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সামিউলের বাবা কে আর আজম বাদী হয়ে আদাবর থা’নায় একটি হ’ত্যা মা’মলা করেন। ছে’লে হ’ত্যার বিচার চেয়ে মা’মলা করে বারবার হ’ত্যার হু’মকি পেয়েছিলেন আজম। কিন্তু তার সত্ত্বেও মা’মলা তুলে নেননি।

২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা আদাবর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) কাজী শাহান হক এশা ও বাক্কুর বি’রুদ্ধে আ’দালতে অ’ভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আ’দালত আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন।

মা’মলায় মোট ২২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এতে এশা ও বাক্কু উভ’য় হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার বিষয়ে আ’দালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেন।

এদিকে, ২০১৪ সালে মা’মলার বাদী কে আর আজম থা’নায় একটি জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, হাই’কোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে বাক্কু তাকে হু’মকি দিচ্ছেন, মা’মলা চালানো বন্ধ না করলে ছে’লের মতো তাকেও মে’রে ফেলা হবে।

পরে ওই বছরই আ’দালতে আবেদন করে স্ত্রী’কে জামিনে বের করে আনেন আজম। পরে কিছুদিন স্ত্রী’র সঙ্গে ঘরও করেন তিনি। কিন্তু কিডনি জটিলতায় মা’মলার বিচার চলাকালীন মা’রা যান আজম। মৃ’ত্যুর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মা’মলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

অবশেষে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ছে’লে হ’ত্যার বিচার হলেও মৃ’ত্যুর কাছে হেরে সেই রায় দেখে যেতে পারলেন না আজম।

চাঞ্চল্যকর ওই হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ এক দশক পর আজ ঢাকার বিশেষ জজ আ’দালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম মা’মলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সামিউলের মা এশা ও তার পরোকিয়া প্রে’মিক বাক্কুর মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ঘোষণা করেন আ’দালত। একই সাথে অ’পর একটি ধারায় প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা জ’রিমানা করা হয়।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সামিউলের বাবা আজমের বন্ধু ও ব্যক্তিগত আইনজীবী ইস’লাম উদ্দিন বিশ্বা’স এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া।

তবে আসামী সামিউলের মা আয়েশা হু’মায়রা এশা ও তার প্রে’মিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু- দুজনই জামিন পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। আজ তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। এমনকি এদিন আসামী পক্ষের কোন আইনজীবীও উপস্থিতি ছিলেন না। তাই মৃ’ত্যুদ’ণ্ড পাওয়া দুই পলাতক আ’সামির বি’রুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারি করারও আদেশ দিয়েছে আ’দালত।

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়ার আবেদন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দু’র্নী’তির দায়ে দ’ণ্ডি’ত সা’জা স্থগিত করে মু’ক্তির মেয়াদ পূর্বের শর্তে …