বদিখ্যাত অ’ভিনেতা আবদুল কাদেরের জানা-অজানা গল্প

প্যানক্রিয়াসের (অগ্ন্যাশয়) ক্যান্সারে ভুগে মা’রা গেছেন দেশের নন্দিত অ’ভিনেতা আবদুল কাদের।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) শনিবার সকালে রাজধানীর এভা’রকেয়ার হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান তিনি। ভা’রতের চেন্নাইয়ের ক্রিস্টিয়ান মেডিকেল হাসপাতা’লে চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন আগে দেশে ফিরেছেন ক্যান্সার আ’ক্রান্ত এই অ’ভিনেতা।

আবদুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইস’লাম জেমি জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই অ’ভিনেতার মৃ’ত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজে। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাট’কের চরিত্র ‘বদি’ খ্যাত আবদুল কাদেরের জন্ম মুন্সীগঞ্জ জে’লার টঙ্গীবাড়ী থা’নার সোনারং গ্রামে। তার বাবা ম’রহু’ম আবদুল জলিল।

মা ম’রহু’মা আনোয়ারা খাতুন। স্ত্রী’ খাইরুননেছা কাদেরের সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে তিনি এক ছে’লে ও এক মেয়ের জনক। রেখে গেছেন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও বন্ধু স্বজন।

শোবিজে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত আবদুল কাদের সোনারং হাইস্কুল ও বন্দর হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ও এমএ করেন। অর্থনীতিতে সিঙ্গাইর কলেজ ও লৌহ’জং কলেজে অধ্যাপনা এবং বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরির পর ১৯৭৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক কোম্পানি ‘বাটা’ তে যোগ দেন কর্মক’র্তা হিসেবে।

তবে স্কুলজীবন থেকেই অ’ভিনয়ের সঙ্গে তার সখ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাট’কে অমল চরিত্রে অ’ভিনয়ের মাধ্যমে তার প্রথম নাট’কে অ’ভিনয় শুরু। ১৯৭২-৭৪ পরপর তিন বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন মহসিন হলের নাট’ক সেলিম আল দীন রচিত ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফ নির্দেশিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’-এ অ’ভিনেতা হিসেবে পুরস্কারও লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রযোজিত বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ জ্ঞানের অনুষ্ঠান ‘বলুন দেখি’-তে চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম সদস্য হিসেবেও পুরস্কার লাভ করেন আবদুল কাদের।

১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য এবং চার বছর যুগ্ম-সম্পাদকের ও ছয় বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে থিয়েটারের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে আছেন।

১৯৭৪ সালে ঢাকায় আ’মেরিকান কলেজ থিয়েটার ট্রুপ কর্তৃক আয়োজিত অ’ভিনয় কর্মশালায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

থিয়েটারের প্রায় ৩০টি প্রযোজনায় প্রতিটিতে অ’ভিনয় এবং ১০০০টিরও বেশি প্রদর্শনীতে অ’ভিনয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তার অ’ভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাট’ক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এখনও ক্রীতদাস, তোম’রাই, স্পর্ধা, দুই বোন, মেরাজ ফকিরের মা।

১৯৮২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে বাংলাদেশের নাট’ক থিয়েটারের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ -এ অ’ভিনয় করেন। এছাড়া দেশের বাইরে জা’পান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কলকাতা, দিল্লি, দুবাই এবং দেশের প্রায় সবকটি জে’লায় আমন্ত্রিত অ’ভিনয় করেছেন। এছাড়া টেলিভিশনে দুই হাজারের বেশি নাট’কে অ’ভিনয় করেছেন।

১৯৭২ সাল থেকে টেলিভিশন ও ১৯৭৩ সাল থেকে রেডিও নাট’কে নিয়মিত অ’ভিনয় শুরু করেন। টেলিভিশনে তার অ’ভিনিত প্রথম কি’শোর ধারাবাহিক নাট’ক ‘এসো গল্পের দেশে’। তবে তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান ‘কোথাও কেউ নেই’ নাট’কে বিখ্যাত চরিত্র বাকের ভাইয়ের সহযোগী বদি হিসেবে। হু’মায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ ধারাবাহিকে দুলাভাই চরিত্রেও তিনি হাস্যরসাত্মক অ’ভিনয় দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কাজ করেছেন মাটির কোলে, নক্ষত্রের রাত, শীর্ষবিন্দু, সবুজ সাথী, তিন টেক্কা, যুবরাজ, আ’গুন লাগা সন্ধ্যা, এই সেই কণ্ঠস্বর, আমা’র দেশের লাগি, প্যাকেজ সংবাদ, সবুজছায়া, কার ছায়া ছিল, দীঘল গায়ের কন্যা, কুসুম কুসুম ভালোবাসা, নীতু তোমাকে ভালোবাসি, আমাদের ছোট নদী, ভালোমন্দ মানুষেরা, দূরের আকাশ, ফুটানী বাবুরা, হা’রানো সুর, দুলাভাই, অ’জ্ঞান পার্টি, লো’ভ, মোবারকের ঈদ, বহুরূপী, এই মেকাপ, ঢুলীবাড়ী, সাত গোয়েন্দা, এক জনমে, জল পড়ে পাতা নড়ে, খান বাহাদুরের তিন ছে’লে, ইন্টারনেটের বউ, ঈদ মোবারক, সিটিজেন, হতাই, ফাঁপড়, চারবিবি, সুন্দরপুর কতদুর, ভালবাসার ডাক্তার, চো’রাগলী, বয়রা পরিবার ইত্যাদি নাট’কগুলোতে।

রিয়াজ ও শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘রং নাম্বার’ চলচ্চিত্রেও দারুণ অ’ভিনয় করে দর্শকের মনে আজও স্ম’রণীয় হয়ে আছেন তিনি।

অ’ভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের কাজও করেছেন এ সফল অ’ভিনেতা। তার উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গরু মা’র্কা ঢেউ টিন, বম্বে সুইটস এর চিকেন ক্রেকার্স, ভালো বীজে ভালো ফসল, এলিফ্যান্ট কিং মশার কয়েল, ইকোনো বলপেন, চাকা বল সাবান, জংশেন মোটরসাইকেল, এলজি এয়ার কন্ডিশনার, কোয়ালিটি আইসক্রিম, ক্রাউন মেলামাইন, অশোক লিলেন্ড, কেয়া শেভিং ক্রিম, ডেক্সট্রোজ, পারফেক্ট মিটার, হার্ট ফাউন্ডেশন লটারি, গাজী ট্যাংক, মাইওয়ান টিভি, কোয়ালিটি গুঁড়ো দুধ, প্রমি গুঁড়া মশলা, মোবাইল বাজার, সবুজ ছায়া গোল্ডেন সিটি, হিমতাজ তৈল, তালুকদার গ্রুপ ইউপিভিসি পাইপ ইত্যাদি।

সর্বশেষ তিনি বাটা থেকে চাকরি পরিবর্তন করে বে ইম্পেরিয়াম লিমিটেডের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।

Check Also

সালমান খানের ক্যারিয়ার শেষ করে রাস্তায় নামাবেন তিনি!

কিছুদিন আগেই চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল রশিদ খানের নামে মামলা করেছেন ‘রাধে’ অভিনেতা সালমান খান। এবার …