নিজ হাতে সন্তানের মা’থা ফা’টিয়ে কোলে নিয়ে ভিক্ষা!

ফেনীতে নিজ হাতে সন্তানের মাথা ফা’টিয়ে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করছেন এক নারী। শহরের মসজিদ, হাস’পাতাল, রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় এ নারীকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়।

রবিবার (২৯ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট ভা’ইরাল হয়, যেখানে লেখা ‘শহরের একাডেমি এলাকায় দুটি শিশুকে উ’দ্ধার করে স্থানীয়রা’। এমন খবরে শহরে বিভ্রা’ন্তি ছ’ড়িয়ে পড়ে। এরপরেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের মিজান রোড়স্থ তমিজিয়া মসজিদের সামনে ভিক্ষা করতে দেখা যায় ওই নারীকে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাচ্চা দুটিসহ মহিলাটি মানুষের কাছে টাকা ভিক্ষা চাইছে।

তখন ওই নারীর অভিনব কায়দায় ভিক্ষাবৃত্তির ব্যাপারে তথ্য দেয় স্থানীয়রা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়-এর সহ-সভাপতি জুলহাস তালুকদার বলেন, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২০১৮ সালের শবে বরাতের রাতে। শহরে অজ্ঞাত মহিলার খবরে ছুটে যায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়-এর সদস্যরা।

সেখান থেকে তাকে ও বাচ্চাদের হা’সপাতালে ভর্তি করায় সংগঠনটির সদস্যরা। সেসময় তারা বাচ্চার জামা-কাপড় পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে, ওই নারীর চি’ৎকার চেঁ’চামেচি করে তার স্বামীর কাছে যেতে চান। এরপর বাচ্চাদের নিয়ে ওই নারী হাস’পাতাল থেকে বেরিয়ে যান।

এর দশ দিন পর আবার ফেনী শহর থেকে বাচ্চা দুটিসহ ওই নারীকে এনে আবার হা’সপাতালে ভ’র্তি হলে এক ঘন্টা পর তিনি চলে যান।

তখন ফেনী সদর হাস’পাতালের কর্তব্যরত চি’কিৎসক বাচ্চাদের দেখে জানান, কোনো মা’দকদ্র’ব্য অথবা ঔ’ষধের মাধ্যমে ঘুমিয়ে রাখা হয় শিশু দুটিকে এবং সেই সুযোগ নিয়ে মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা করা হয়।

এর কিছুদিন পর ৯৯৯ থেকে পুলি’শের কাছে কল আসে এই শি’শুদের নিয়ে, পুলিশের কাজে সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায় শহরের মুক্ত বাজার এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনলে বাচ্চাদের মাথার ব্যা’ন্ডেজ খুলে দেখা যায় মাথায় কোনো ক্ষ’ত ছাড়া ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাখা হয়, মানুষকে বি’ভ্রান্ত করার জন্য।

গেল মাসের ৩১ তারিখ রাত ২টায় মহিপাল ফ্লাইওভার এর নিচে এক মহিলা ইট দিয়ে বাচ্চা এবং নিজের মাথায় আ’ঘাত করছেন বলে খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়-এর সভাপতি মঞ্জিলা মিমিকে অবগত করলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এই নারী প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন । তখন বাচ্চাদের হাসপা’তালে নেওয়া হলে সকালে হাস’পাতালের কাউকে না জানিয়ে তিনি গোপ’নে পালিয়ে যান।

সহায়-এর সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার বলেন, ‘তাকে যখনই বলা হয় তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং তার স্বামীর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, তখনই কৌশলে তিনি সটকে পড়েন। ’

জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান তার নাম রুমি। স্বামীর নাম সুজন, বাড়ী রংপুরে । আবার কখনো বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়। তিনি আরো জানান, সঙ্গে থাকা শিশু সাকিবের বয়স ৩ বছর, সুমাইয়ার বয়স ৯ মাস। তিনি সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে শহরের সহদেবপুরের একটি বস্তিতে থাকেন।

২৫০ শয্যার বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাস’পাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন বলেন, মহিলাটির বাচ্চাদের বেশ কয়েকবার চি’কিৎসার জন্য আনা হয়।

জরুরি বিভাগে কর্মরত মামুন মিয়াজী জানান, একবার ব্যান্ডেজ খুলে বা’চ্চাদের মা’থায় আ’ঘাত দেখা যায়নি। অন্য সময় মা’থায় আ’ঘাতের চি’হ্ন দেখা যাওয়ায় চি’কিৎসা দেয়া হলেও ওই নারী চি’কিৎসা না নিয়ে পালি’য়ে যান।

যদিও প্র’তারণার বিষয়টি ওই না’রী অস্বী’কার করেছেন। তার দাবি, দূ’র্ঘট’নায় তার সন্তা’নদের মাথা ফে’টেছে। চি’কিৎসা না করিয়ে হা’সপাতাল থেকে স’টকে প’ড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তার কাছে কোনো সদোত্তর পাওয়া যায়নি।

Check Also

ধেয়ে আসছে বিশালাকার গ্রহাণু

একটি বিশালাকার গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এটি পৃথিবীর …