টিকা নিতে আগ্রহী দেশের ৮৪ ভাগ মানুষ

দেশের ৮৪ ভাগ মানুষ করো’নাভাই’রাসের ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে সবাই এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন নিতে চায় না। এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন নিতে চায় ৩২ ভাগ মানুষ। বাকি ৫২ ভাগ মানুষ এই মুহূর্তে নয়, দেখে শুনে দেরিতে ভ্যাকসিন নিতে চায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের এক জ’রিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য। করোনাভাই’রাসের টিকার প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে এই গবেষনায় চালায় তারা।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে এই মুহূর্তে স’ন্দেহ আছে ৫৫ ভাগ মানুষের আর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে স’ন্দেহ আছে ৩৪ ভাগ মানুষের।

তারা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তবেই টিকা নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন গবেষণা দলটির অন্যতম সদস্য ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষের ওপর জ’রিপ চালিয়ে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

বিনামূল্যে দিলে নিম্নবিত্তরা ভ্যাকসিন নিতে চায়। তবে উচ্চবিত্তদের মধ্যে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নেয়ার আগ্রহ বেশি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মঙ্গলবারই জানিয়েছেন যে আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান শুরু হবে বাংলাদেশে। তবে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐ দিন ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতা’লে স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ২৫ জনকে টিকা দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছিল যে অন্তত ৭৫ ভাগ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী। তবে সেই গবেষণায় বলা হয়েছিল যে শহরে বসবাসকারী নাগরিকরা গ্রামের মানুষের চেয়ে টিকা নেয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এসেছে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেশি।

ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলছেন, শহরের চেয়ে গ্রামে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কম এবং সে কারণে গুজব ও নেতিবাচক প্রচারণাও সেখানে তুলনামূলক কম বলেই গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ বেশি বলে মনে করছেন তারা।

ঢাবির গবেষণা থেকে যা জানা যায়, দেশের আট বিভাগের আটটি জে’লা ও ষোলটি উপজে’লায়, এবং ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশনে জনসমাগম বেশি এমন জায়গাগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত জ’রিপে পাওয়া গেছে যে ১৬ শতাংশ মানুষ কখনোই টিকা নিতে চায় না। মোট ৮৪ ভাগ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী তবে এর মধ্যে ৫২ ভাগ এখনই না নিয়ে ধীরে সুস্থে নিতে আগ্রহী, বলে জানান অধ্যাপক ড. নাহিন।

গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া গেছে তা হলো- ঢাকা সিটিতে টিকা নেয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কম আবার যারা টিকা নিতে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বেশি।

আবার যদিও বিনামূল্যে না দেয়া হয় তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কম।

এমনকি মোট যে ৮৪ ভাগ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী তাদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে টিকা নিতে আগ্রহী ৬৬ ভাগ। আবার বয়স্কদের, বিশেষ করে ষাটের চেয়ে বেশি বয়স যাদের, তাদের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ কম।

আগ্রহীরা কেন এখনই টিকা নিতে রাজি নন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, গবেষণায় তিনটি বিশেষ কারণ উঠে এসেছে টিকা নিতে অনাগ্রহের বিষয়ে।

এগুলো হলো টিকার কার্যকারিতা নিয়ে স’ন্দেহ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং টিকার মান নিয়ে স’ন্দেহ।

এর বাইরে একদল ব্যক্তি আছেন যারা মনে করেন টিকা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা নেই।

তবে এই গবেষণার সাথে জড়িতরা মনে করছেন, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব আর নেতিবাচক প্রচারণার কারণেই অনেকের মধ্যে টিকা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

শহর এলাকার মানুষ টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেক বেশি তথ্য পায়। আর বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা নেতিবাচক আলোচনা বেশি হয় বলেই অনেকে মনে করেন। হয়তো তারও একটা প্রভাব এটি হতে পারে মন্তব্য করেন ড. নাহিন।

নর্থ সাউথের গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের আটটি জে’লায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর জ’রিপ চালিয়ে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথ ইন্সটিটিউট জানিয়েছিল, কার্যকর ও নিরাপদ টিকা নিতে চায় দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ। আর সাত শতাংশ মানুষ মোটেও টিকা নিতে ইচ্ছুক নন।

ঐ গবেষণায় পাওয়া যায় যে শহরের মানুষ টিকা নিতে বেশি আগ্রহী আর টিকা নেয়া নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে অনিচ্ছা ও দ্বিধা বেশি কাজ করছে।

Check Also

মডেল রোমানাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের দায়ের করা মামলায় মডেল ও রান আউট সিনেমার নায়িকা …