জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির পেতে কার্যকরী সমাধান

যদি শরীরের কোথাও জ্বালাপোড়া করে তাহলে কতটা অস্বস্তি লাগে তা আমরা সকলেই জানি। শরীরে জ্বালাপোড়া করলে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কোনো কাজেই যেন আর মন বসে না। সবসময় মনে হয় কীভাবে এই জ্বালা থেকে মুক্তি পাবো।

জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির কিছু বিশেষ উপায় রয়েছে। যেগুলো অবলম্বন করলে আপনি খুব শীঘ্রই আপনার যে-কোনো জ্বালাপোড়া ভ্যানিশ করে দিতে পারেন। জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির জন্য আজ দেহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবে কিছু টিপস যা আপনার উপকারে আসবে। তাহলে চলুন এবার জেনে নেয়া যাক।

১. ত্বক জ্বালাপোড়া

গরমে শরীরের যে অংশটাতে বেশি জ্বালাপোড়া হয় তা হচ্ছে ত্বক। কারণ সূর্যের যে তাপ রয়েছে তা ত্বকের ওপরেই বেশি পড়ে। গরমে তাপমাত্রার পরিমাণ বেড়ে যায়, এর ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক কোমল ও ফর্সা তাদের ত্বকে জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এছাড়া রোদে ও আগুনের কাছাকাছি কাজ করলেও এমন সমস্যা হয়। অ্যালার্জির কারণেও ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়।

উপসর্গ

১. ত্বক চুলকানো

২. শুষ্ক হয়ে যাওয়া

৩. ফুসকুড়ি ওঠা

৪. ত্বকে ব্যথা হওয়া

৫. ত্বক বৃদ্ধি পাওয়া

৬.ত্বক ফুলে যাওয়া

করণীয়

১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে

২. পানি দিয়ে মুখ বার বার ধুয়ে ফেলতে হবে

৩. মাথায় ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করতে হবে

৪. সূর্যের রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে

৫. পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

৬. ব্যায়াম করতে হবে

৭. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২. পেট জ্বালা

পেটে জ্বালাপোড়া সাধারণত অ্যাসিডিটির কারণে হয়ে থাকে। এর কারণে পেটে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া করে। এই অ্যাসিডিটি যে-কোনো সময় দেখা দিতে পারে। চর্বি বা বেশি মসলাযুক্ত খাবারের কারণেও এই সমস্যা দেখা যায়।

উপসর্গ

১. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

২. ঢেকুর ওঠা

৩. পেট ভরা বোধ হওয়া

৪. ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়া

৫. ওজন কমে যাওয়া

করণীয়

১. ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

২. মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে হবে

৩. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে

৪. ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে

৫. চা ও কফি পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করতে হবে

৬. খুব বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

৩. গলায় জ্বালাপোড়া

গলায় জ্বালাপোড়ার সময় অনুভব হয় গলার মধ্যে কিছু আটকে আছে বা গলায় পিণ্ড হয়েছে। এই সময় কিছু খেতে গেলেও গলায় ব্যথা হয় এবং জ্বালাপোড়া হয়। ঠান্ডা পরিবেশে থাকার কারণে এই সমস্যা হয়। কোনো কিছু খেতে কষ্ট হয় গলায় জ্বালা করলে।

উপসর্গ

১. জ্বর হওয়া

২. গলা ব্যথা হওয়া

৩. কানে ব্যথা হওয়া

৪.মাথায় ব্যথা হওয়া

৫. কাশি হওয়া

করণীয়

১. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে

২. প্রতিদিন সকালে মধু খেলে গলাব্যথা ছেড়ে যাবে

৩. গরম লবণযুক্ত পানি দিয়ে গলায় গড়গড়া করতে হবে

৪. ঠান্ডা লাগানো যাবে না

৫. খুব বেশি সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৪. পিঠ জ্বালা

আমাদের দেশের প্রায় অধিকাংশ মানুষই এই সমস্যায় ভোগে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

উপসর্গ

১. ওজন কমে যাওয়া

২. প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া

৩. হাত ও পা দুর্বল হয়ে যাওয়া

৪. পায়খানা ও প্রস্রাবে সমস্যা

৫. প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা

করণীয়

১. হালকা গরম সেক দিতে হবে

২. হালকা ব্যায়াম করতে হবে

৩. সামনে ঝুঁকে বেশিক্ষণ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে

৪. পিঠে তেল দিয়ে মালিশ করতে হবে

৫. প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৫. হাত জ্বালাপোড়া

আমাদের অনেকের মধ্যেই এই সমস্যা রয়েছে, গরমে এই সমস্যায় ভোগে বেশিরভাগ মানুষ। রক্তে অতিরিক্ত শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে এই রোগের সৃষ্টি হয়। অ্যালার্জিজনিত কারণেও এটি হতে পারে।

উপসর্গ

১. হাতের তালু চুলকানো

২. প্রচুর ব্যথা হওয়া

৩. রাতে জ্বালা বেড়ে যাওয়া

৪. হাতের তালু ঘেমে যাওয়া

৫. হাত অবশ হয়ে যাওয়া

করণীয়

১. জ্বালা কমাতে ঠান্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করতে হবে

২. নারকেল তেল হাতে মিশিয়ে ম্যাসাজ করলে জ্বালা কমে যাবে

৩. জ্বালা কমাতে নিয়মিত আদা-চা খেতে হবে

৪. জ্বালা কমানোর জন্য হলুদ ব্যবহার করতে হবে

৫. দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে হবে

৬. প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৬. কোমরে জ্বালা

আমরা প্রায় সময়েই কোমরের জ্বালাপোড়ায় ভুগি। খুব বেশি চলাফেরা করলে কোমরে ব্যথা হয়। এছাড়াও একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করলেও কোমরের ব্যথা দেখা দেয়। মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার কারণেও কোমরে ব্যথা হয়ে থাকে।

উপসর্গ

১. প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হওয়া

২. ব্যথা পা থেকে কোমর অবধি ওঠা

৩. পা খিচে ধরা

৪. অনেকক্ষণ বসে অথবা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা

৫. চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা

করণীয়

১. ওজন কমাতে হবে

২. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে

৩. কিছু বহন করার সময় সতর্ক থাকতে হবে

৪. সামনে ঝুঁকে কাজ করা যাবে না

৫. উপুড় হয়ে শোয়া থেকে বিরত থাকতে হবে

৬. যানবাহনে চড়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে

৭. অতিরিক্ত সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৭. ঘাড় জ্বালাপোড়া

অনেক সময় হঠাৎ করেই আমাদের ঘাড় টেনে ধরে এবং তখন খুব জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। স্নায়ুবিক কারণে সাধারণত এই সমস্যা দেখা যায়। নারী ও পুরুষ উভয়েই এই সমস্যায় ভোগেন। এছাড়া ঘাড়ের মাংসপেশি যখন শক্ত হয়ে যায় তখন এই সমস্যায় পড়তে হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলেও এই সমস্যা হয়ে থাকে।

উপসর্গ

১. ঘাড়ে ব্যথা হওয়া

২. ঘাড় অবশ হয়ে যাওয়া

৩. ঘাড়ের পেশি সংকুচিত হয়ে যাওয়া

৪. মাথা ব্যথার সৃষ্টি হওয়া

৫. ঘাড়ের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া

করণীয়

১. যে-কোনো কাজ করার সময় ঘাড় ঝুঁকিয়ে রাখা যাবে না

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে

৩. শক্ত ও সমান বিছানায় ঘুমাতে হবে

৪. প্রয়োজনীয় মাত্রায় ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে

৫. অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না

৬. খুব বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আমরা প্রত্যেকেই এই সমস্যাগুলোয় পড়ে থাকি। এসব সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে আমরা বাড়িতেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। আপনি যদি এই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন তাহলে অবশ্যই আমাদের দেওয়া পরামর্শমতো কাজ করলে আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন আশা রাখছি। আর খুব বেশি সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

Check Also

লক্ষণ দেখে বুঝে নিন শরীর আপনাকে যে ১০টি খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে

দেহ মাঝে মাঝে কিছু ছোটো ছোটো লক্ষণ এর মাধ্যমে দেহাভ্যন্তরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন …