চোখ লাল হওয়ার যে ১০টি কারণ অনেকেরই অজানা

সব বয়সি মানুষ চোখ লাল হওয়ার মতো বিব্রতকর সমস্যায় ভুগে থাকে। চোখের রং লাল হলেই আমরা ভাবি চোখ উঠেছে। কিন্তু চোখ ওঠা ছাড়াও আরও অনেক কারণে এই সমস্যা হতে পারে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের লক্ষণের তালিকাতে নতুন যোগ হয়েছে পিংক আই বা কনজাংকটিভাইটিস। তাই লাল হওয়া চোখকে আর নয় অবহেলা।

আপনাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেহ সব সময় চিন্তা করে। দেহ আজ আপনাদের জানাবে কোন ১০ টি কারণে আপনার এই সমস্যা হতে পারে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই কারণগুলো।

১. কনজাংটিভার প্রদাহ হলে চোখ লাল হতে পারে
কনজাংটিভার প্রদাহকে বলে কনজাংকটিভাইটিস। ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ এমনকি অ্যালার্জিক কারণেও হতে পারে কনজাংটিভাইটিস। একেই বলে পিংক আই। এছাড়াও চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখে ব্যথা হওয়া, চোখের কোনে পিচুটি জমা হওয়া, আলোতে চোখে কষ্ট হওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়।

২. শুষ্ক চোখ হতে পারে লাল চোখের কারণ

চোখের পানি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি না হয় অথবা চোখ কে আর্দ্র রাখতে সক্ষম না হয় তখন শুষ্ক চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর হওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয় এক্ষেত্রে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, মোটরসাইকেল রাইড, এয়ারকন্ডিশন রুমে থাকা প্রভৃতি কারণে হতে পারে ড্রাই আই।

৩. পরিবেশগত দূষণের কারণে এই সমস্যা হতে পারে

বাতাসের ধুলোবালি, ধোয়ার কারণে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হয়ে চোখ লাল হতে পারে। সুইমিং পুলে যারা অনেকক্ষণ ধরে সাতার কাটে তারাও এ সমস্যায় ভোগেন। কারণ সুইমিং পুলের ক্লোরিন মিশ্রিত পানি চোখের রং লাল করতে পারে।

৪. চোখের মধ্য স্তরের প্রদাহ বা ইউভেআইটিস

লাল চোখের অন্যতম কারণ হলো চোখের মধ্যস্তর বা ইউভেয়াল স্তরে প্রদাহ। যে-কোনো ইনফেকশন, আঘাত বা অন্য রোগের কারণেও হতে পারে এই প্রদাহ। এর হওয়ার পাশাপাশি চোখে ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, আলোতে অসহ্য লাগা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

৫. গ্লুকোমা রুগিদের চোখ লালের সমস্যা দেখা যায়

এটি চোখের একটি জটিল রোগ। চোখের অপটিক স্নায়ু নষ্ট হওয়ার কারণে এই রোগ হয়। এই রোগে চোখ লাল হওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়। যাদের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও গ্লুকোমার পারিবারিক ইতিহাস আছে তারা আক্রান্ত হতে পারে। ১০% এর বেশি গ্লুকোমা রুগির দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

৬. কর্নিয়ায় আঘাত বা ক্ষতের কারণে চোখ লাল দেখায়

চোখের সবচেয়ে বাহিরের স্বচ্ছ স্তরটির নাম কর্নিয়া। এই পাতলা স্তরে কোনো আঘাত লাগলে, কোনো রাসায়নিক পড়লে বা ইনফেকশন হলে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত এক চোখে হয়। এর পাশাপাশি প্রচণ্ড ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, পুঁজ পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, অালো সহ্য করতে না পারা এসব সমস্যা দেখা যায়।

৭. চোখের কনজাংটিভার নিচে রক্ত জমতে পারে

কনজাংটিভার নিচে রক্ত জমা হলে তাকে বলে সাবকনজাংটিভাল হেমোরেজ। চোখের সাদা অংশের ছোটো ছোটো রক্তনালি থেকে রক্তপাত হয়ে এমন হয়। সাধারণত এক চোখে হয়। কোনো ব্যথা থাকে না। এমনকি দৃষ্টি শক্তির ওপরও কোনো প্রভাব পড়ে না। তেমন কোনো চিকিৎসার দরকার পড়ে না এক্ষেত্রে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একাই ভালো হয়ে যায়।

৮. কনটাক্ট লেন্স পরিধানের কারণে চোখ লাল হতে পারে

কনটাক্ট লেন্স এবং লেন্সের সলিউশনের প্রতি অ্যালার্জিক হতে পারেন অনেকে। সেজন্য কনটাক্ট লেন্স পরলে চোখে প্রদাহ হতে পারে। লেন্স পরে অনেকে দীর্ঘক্ষণ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিলে অথবা ঘুমিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহও হতে পারে।

৯. ধূমপান, অ্যালকোহল ও অন্যান্য নেশাদ্রব্য

ধূমপানের ফলে চোখের ছোটো রক্তনালিগুলো একত্রে জড়ো হয়ে চোখ লাল দেখা যেতে পারে। মারিজুয়ানা বা গাঁজা আসক্তদেরও এই সমস্যা হতে পারে। অ্যালকোহল পান করলে চোখের ছোট রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়, বেশি রক্ত প্রবাহিত হয়। সেজন্য অ্যালকোহল আসক্তদের চোখও লাল হতে পারে।

১০. ট্রাকোমার কারণে চোখ লাল বর্ণ ধারণ করে

ট্রাকোমা চোখের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ। এই রোগে চোখ লাল হওয়ার পাশাপাশি চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, আলোতে অসহ্য লাগা প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়। সঠিকভাবে চিকিৎসার অভাবে এই রোগ থেকে অন্ধত্ব হতে পারে।

Check Also

জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির পেতে কার্যকরী সমাধান

যদি শরীরের কোথাও জ্বালাপোড়া করে তাহলে কতটা অস্বস্তি লাগে তা আমরা সকলেই জানি। শরীরে জ্বালাপোড়া …