চীনা অর্থনীতির উত্থান

এ দশক শেষ হবার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চীন, বলছে এক রিপোর্ট।

আগে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল তার পাঁচ বছর আগেই এটা ঘটবে বলে বলা হচ্ছে।

সেন্টার ফর ইকনোমিক্স এ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) নামে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া চীনের অনুকুলে কাজ করেছে।

সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস সংকট চীন যেভাবে সামাল দিয়েছে তার ফলে চীনের অর্থনীতিতে দু শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

কেন্দ্রটি বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আগামী বছরই জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু চীনের অর্থনীতিতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৫.৭ শতাংশ করে।

এক বছর আগেও মনে করা হচ্ছিল যে অর্থনীতির আকারের দিক থেকে চীন ২০৩০এর দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িযে যাবে।

কিন্তু সিইবিআর বলছে, বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির সময় চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের আগেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে, এবং ২০২০ সালে তাদের প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এ বছর ৫ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই চীনের সাথে তার বৃহত্তম প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান কমে আসবে, বলছে সিইবিআর।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন মনে করছে, ডলারের হিসেবে চীনের অর্থনীতির মূল্যমান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবার ঘটনাটি ঘটে যাবে আগে যা হিসেব করা হয়েছিল – তার পাঁচ বছর আগেই।

সিইবিআরের ডেপুটি চেয়ারম্যান ডগলাস ম্যাকউইলিয়ামস বলছেন, “এ পূর্বাভাসের বড় খবরটি হলো চীনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ঘটছে দ্রুতগতিতে। আমরা ধারণা করছি ২০২৫ সালে তাদের বর্তমান পাঁচসালা পরিকল্পনার মধ্যেই তারা একটি উচ্চ-আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হবে, এবং – আমরা এক বছর আগেও যা মনে করছিলাম তার পাঁচ বছর আগেই – তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।”

রিপোর্টটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের অংশ ২০০০ সালে ছিল ৩.৬ শতাংশ যা এখন বেড়ে ১৭.৮ শতাংশ হয়েছে। এটা আরো বাড়বে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ চীন উচ্চ-আয়ের দেশে পরিণত হবে – যখন তার মাথাপিছু আয় হবে ১২,৫৩৬ ডলারের বেশি।

তবে তখনও যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর চাইতে চীনের জীবনযাত্রার মান অনেক নিচুতে থাকবে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু আয় হচ্ছে ৬৩,০০০ ডলারেরও বেশি।

রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়, ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত।

অন্য এশিয়ান দেশগুলোও বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর তালিকায় ওপর দিকে উঠে আসবে।

তা ছাড়া রিপোর্টে আরো বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ সত্বেও ব্রিটেনের অর্থনীতি ভালো করতে থাকবে এবং আগামী ১৫ বছরে ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হবে।

Check Also

মমতার বাড়ি নেই, গয়নাও ১ ভরির কম

ভা’রতের রাজনীতিতে বিভিন্ন পর্যায়ে দু’র্নী’তিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে যখন দেশের অনেক নেতা জর্জ’রিত তখন এক ব্যতিক্রমী …