কি এই জিনিস ? যার মূল্য ৬৩০ কোটি টাকা!

জন্ম’দিন, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা যেকোনো খুশি উদযাপন কেক ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। প্রতিটি আয়োজনেই থাকে কেকের উপস্থিতি। আয়োজনের ভিত্তিতে করা হয় কেকের নকশা। নানান ধরনের সুন্দর নকশার মাধ্যমে কেক ডিজাইন করে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে কেক কারিগর। তেমনই এক কেক বানিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেকে তুলে ধরেছেন ব্রিটিশ নাগরিক ডেবি উইংহ্যাম।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি কেকের তালিকায় একাধিকবার নাম এসেছে বিখ্যাত ব্রিটিশ কেক নকশাকার ডেবি উইংহ্যামের। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ নাগরিক কেকের নকশা করে বারবার বিশ্বকে তাক লাগিয়েছেন। তার নকশা করা একটি কেকের দাম ধ’রা হয় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা। এই কেকটির নামকরণ করা হয় ‘রানওয়ে কেক’। অনেকেই দাবি করেন, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি কেক।

সবচেয়ে দামি এই কেক দেখতেও বেশ অন্যরকম। বিয়ের পোশাক পরা এক আরব্য কনে। নাম আরবিতে ‘লুলওয়া’, অর্থাৎ মুক্তা। লুলওয়া লম্বায় ৬ ফুট আর ওজন ১২০ কেজি। কেক-বউকে সাজানোর জন্য নিপুণ হাতে এক হাজার মুক্তা আর দুই হাজার ক্ষুদ্রাকৃতির সাদা ফুল তৈরি করেন ডেবি।

এই আরব্য কনেকে সাজাতে সত্যিকারের পাঁচটি দুই ক্যারেটের স্বচ্ছ হিরাও ব্যবহার করেন ডেবি। যার একেকটির বাজার দাম ২০০ ডলার। ডেবি এই কেকটি তৈরি করতে ব্যবহার করেছেন এক হাজার ডিম, ২৫ কেজি চকলেট ও অন্যান্য আরো কিছু উপাদান। কেকটি তৈরি করে সাজাতেই ডেবির লেগে যায় পুরো ১০ দিন।

ডেবির তৈরি এই ‘মাস্টারপিস’ কেকটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ব্রাইড শো’ এর প্রধান আকর্ষণ ছিল। তবে পরে কেকটি কেউ কিনেছিল কিনা তা জানা যায়নি।

এর আগেও অবশ্য ডেবি বিশ্বের অন্যতম দামি এক জোড়া জুতার নকশা করে সংবাদের শিরোনামে উঠে আসেন। ওই একজোড়া জুতার মূল্য ছিল এক কোটি ৫১ লাখ মা’র্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। এটি রীতিমত একটি অ’বাক করা ব্যাপার বটে।

এক জোড়া জুতাতে ২৪ ক্যারেট সোনা আর প্লা’টিনামের ওপর এক হাজার স্বচ্ছ হীরা ব্যবহার করা হয়। এসব হীরার মধ্যে ছিল খুবই বিরল দুটি তিন ক্যারেটের গো’লাপি ও দুটি নীল হীরা। জুতা সেলাই করতে ব্যবহার করা হয়েছিল ১৮ ক্যারেটের সোনার সুতা। সব মিলিয়ে জুতা জোড়ার অ’পূর্ব রং আর নকশা নজর কাড়ে সবার।

এই জুতা জোড়া কিনে নেন এক তরুণ। তবে তিনি মোটেও চাননি যে তার নাম জানাজানি হোক। তিনি জানান, এই মহামূল্যবান জুতা জোড়া তিনি কিনেছেন প্রিয়তমা স্ত্রী’র ৩০তম জন্ম’দিনে উপহার দেয়ার জন্য।

হিসাব করে দেখা গেছে যে দামে এই কেকটি কেনা হয়েছিল এই দামে মোট ৩০টি নতুন মডেলের রোলস রয়েস ফ্যান্টম গাড়ি কিনেও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতে থেকে যাবে। নকশাকার ডেবি উইংহ্যাম নিজেকে শুধু কেক আর জুতার নকশাকার পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। দামি পোশাকের জন্যও বিশ্বব্যাপী বিত্তবানদের কাছ থেকে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আর ঝলমলে ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করে চ’মক দেখিয়েছেন।

১৩ বছর বয়স থেকেই নকশা করতে শুরু করেন ডেবি উইংহ্যাম। অনেকটা শখের বশেই প্রথম নকশার কাজ শুরু করেন ডেবি। যখন তিনি সবার কাছে প্রশংসিত হতে শুরু করেন তখন তিনি এটিকে নে’শা ও পেশা হিসেবে নিয়ে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ডেবি উইংহ্যাম বিবাহিত এবং তিন সন্তানের মা।

Check Also

যে গ্রামে পুরুষের প্রবেশ, বসবাস নিষিদ্ধ!

বছর পনেরো আগের কথা। রোজালিনা লিয়ারপুরা তখন ছোট্ট শিশু। তিন বছর বয়স। বাবাকে সে কখনোই …