কলেজের ফি দিতে না পারায় ছা’ত্রীকে যৌ’নতার প্রস্তাব

বরিশালে ইস’লামি ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউটের এক ছা’ত্রী কলেজের ফি দিতে না পারায় তাকে বিছানায় রাত কা’টানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এডমিন নুর উদ্দিন খান। এমনকি এ কু-প্রস্তাবে রাজি না হয়ে প্রতিবাদ করায় কলেজের অফিস রুমে একাকি আ’ট’কে মানষিক নি’র্যা’তন চালিয়ে যৌ’ন কাজে রাজি করানোর চেষ্টা চালানো হয়।

ভুক্তভোগি ওই কলেজ ছা’ত্রী এসময় দানব নুর উদ্দিনের হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত ফেসবুক লাইভে ঢুকে বন্ধুদের কাছে বাঁ’চার আর্তি জানায়। অবস্থাদৃষ্টে বেকায়দায় পড়তে হবে বুঝে নুর উদ্দিন সট’কে পড়ে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ইস’লামি ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নারী লো’ভী নুর উদ্দিনের বি’রুদ্ধে বিচার চেয়ে বি’ক্ষোভ করে। পাশাপাশি ওই ছা’ত্রীও বিচার চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অ’ভিযোগ করলেও তা গ্রহণ না করে কলেজ অধ্যক্ষ ও ইস’লামি ব্যাংক হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক ও নাসির্ং ইনস্টিটিউটের একাডেমিক বোর্ডের পরিচালক ড. ইসতিয়াক এডমিন রক্ষা করতে নানা কৌশল হাতে নিয়েছেন।

ভূক্তভোগি ছা’ত্রীকে পাগলী বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একইসাথে চাপ প্রয়োগ করে ওই ছা’ত্রীর কাছ থেকে লিখিত রাখতে বা উল্টো ঘায়েল করতে কয়েক দফা চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য ফাঁ’স হলে ভূক্তভোগি ছা’ত্রীকে হয়রানীর অ’পচেষ্টা থেকে পিছু হটে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি ড. ইসতিয়াক ও সেই জামাত শি’বিরের আদর্শের নার্সিং ইনইষ্টিটিউটের নারী লো’ভি অ’প’রাধী নুর উদ্দিন খান। তবে ভুক্তভোগি মে’য়েটি প্রতিবাদী হওয়ায় এবং ঘটনাটি সাংবাদিকদের নজরদারিতে থাকায় উল্টো ফাঁ’সানো সম্ভবপর করতে পারেনি। সর্বশেষ শনিবার ২৬ ডিসেম্বর লিখিত অ’ভিযোগের ভিত্তিতে বিচার করা হবে বলে আস্বস্ত করে ছা’ত্রী ও তার মায়ের কাছে সময় চায় পরিচালনা পর্ষদ।

ভূক্তভোগি ছা’ত্রীর দেয়া বক্তব্য ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, বরিশাল ইস’লামি নার্সিং ইনষ্টিটিউটে পড়তে আশা পিরোজপুর মধ্যবিত্ত পরিবারের ছা’ত্রীর করো’নার মধ্যে কলেজের ফি বকেয়া পড়ে। সেখান থেকে বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। অল্পকিছু টাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ পাওনা থাকার সূত্র ধরে ইস’লামি নার্সিং ইনষ্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মক’র্তা নুর উদ্দিন খান নিজ ইচ্ছায় ওই ছা’ত্রীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। ছা’ত্রীটি তার পরিবারের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরলে তা মানতে নারাজ। এক পর্যায়ে মেসেঞ্জারেই ওই ছা’ত্রীকে প্রশাসনিক কর্মক’র্তা নুরউদ্দিন খান তার সাথে একান্তে বিছানায় রাত কা’টানোর প্রস্তাব দেন।

কর্তৃপক্ষের এমন অ’নৈতিক আচরনে ওই ছা’ত্রী মেসেঞ্জারেই প্রতিবাদ করেন। সেজন্য মে’য়েটিকে হু’মকি দেওয়া হয় কলেজ পরীক্ষায় ফেল করানোর। এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর হোষ্টেলে এসে নিজের লাগেজ নেওয়ার সময় নুর উদ্দিন তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌ’ন হয়রানীর চেষ্টা চালায়। ছা’ত্রীটি নিজের ইজ্জত বাঁ’চাতে দ্রুত ফেসবুক লাইভে এসে বন্ধুদের কাছে সাহায্য চায়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রশাসনিক কর্মক’র্তা অ’প’রাধী নুরউদ্দিন মোবাইল কেড়ে নেয় এবং কুকুরের মতো খিস্থিখেউর করে ছা’ত্রীটির সাথে।

এঘটনার ভিডিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বেশ কয়েকদিন বি’ক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। চাপের মুখে কলেজ অধ্যক্ষ আলিমা বেগম গেল ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর জরুরি সভা করেন। তবে ইস’লামি নার্সিং ইনষ্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় থাকা জামায়ত শি’বিরের একটি অংশ নুর উদ্দিন খানের পক্ষে অংশ নিলে বিচার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ছা’ত্রীর লিখিত অ’ভিযোগটি ছিড়ে ফেলা হয়।

পড়ে ভুক্তভোগি ওই ছা’ত্রীর মা’থায় সমস্যা আছে বা এবনরমাল বলে মিথ্যা ধুয়া ছড়ানো হয়। কলেজের ভিতরের এ খবর মিডিয়ার কানে পৌঁছালে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে মে’য়েটির প্রতিবাদের ভাষ্য অনড় থাকায় তোপের মুখে পড়ে গেল বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে ছা’ত্রীর কাছ থেকে লিখিত অ’ভিযোগ গ্রহণ করে এবং শনিবার সভা ডেকে ভূক্তভোগী ছা’ত্রী ও তার মাকে বিচার করার কথা বলে সময় চান ইস’লামি ব্যাংক হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক ও নার্সিং ইনষ্টিটিউট কলেজর পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি ড.ইসতিয়াক।

তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার প্রথম’দিকে লিখিত অ’ভিযোগটি রাখা হয়নি এটা ভুল করেছে। আম’রা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করবো। তবে মে’য়েটির পাগলামি করার দোষ আছে বলে মিথ্যা কিছু তুলে ধ’রার চেষ্টা করেন সাংবাদিকদের কাছে। এবিষয়ে নার্সিং ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ আকলিমা বেগম বলেন, প্রশাসনিক কর্মক’র্তা নুর উদ্দিন প্রায় কলেজে বসে ওই মে’য়েটিকে বির’ক্ত করতো। আমি অনেকবার বারন করেছি, শুনেনি। নতুনভাবে লিখিত ও মৌখিক অ’ভিযোগ গ্রহণ করে সময় নেয়া হয়েছে মে’য়েটির পরিবারের কাছ থেকে। খুব শিগগিরই এর সমাধান করা হবে।

প্রথম’দিকে নিজেরা নিজেরা চেষ্টা করেছিলাম সমাধান করার জন্য। নুর উদ্দিনের খামখেলির কারণে আর সম্ভব হয়নি। কলেজের হিসাব রক্ষক আসমা জাহান মুন্নি হিসাব জানান, এধরণের ঘটনা ফের যাতে আমাদের কলেজে না ঘটে সেজন্য কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ নুর উদ্দিনের।

এ ঘটনার প্রশ্নে অ’ভিযু’ক্ত প্রশাসনিক কর্মক’র্তা নুর উদ্দিন খান সাক্ষাতে ও টেলিফোনে জানান, তিনি তার কলেজের ওই ছা’ত্রীকে মেসেঞ্জারে কিভাবে লিখলেন তা বুঝে উঠতে পারেন নি। ভূক্তভোগি মে’য়েটি সংবাদকর্মিদের কাছে বলেন, আমা’র সাথে কলেজে যা হয়েছে তা অমানবিক। মনে পড়লে পড়া লেখা আর করতে ইচ্ছে করছে না। তবে মিডিয়ার কাছে দাবি করে বলেন ভাই আপনারা দু:চরিত্র নুর উদ্দিনের এমন বিচারের ব্যবস্থা করবেন যাতে আর কোন মে’য়ের সাথে এধরনের অ’নৈতিক কাজ করতে না পারে।

Check Also

বাস স্ট্যান্ডের পাশে পড়েছিল বস্তাভর্তি টাকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে বনপাড়া বাজারে পাবনা বাস স্ট্যান্ডের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি টাকার বস্তা পাওয়া গেছে। …