ওয়েস্টার্ন ড্রেসে কু’কর্মের মহারাণী ডিজে নেহার রঙিন জগৎ

নাম তার ফারজানা জামান নেহা ওরফে ডিজে নেহা। এই সুন্দরী রমণী কুইন নেহা নামেও তার চক্রে পরিচিত। রাতে তার পরনে থাকে প্রায় অর্ধ উলঙ্গ ওয়েস্টার্ন ড্রেস। চালচলনে বিকৃত রকমের আভিজাত্যের ছাপ। দিনে ঘুম, রাতে ডিজে ও মদের পার্টিতে অশ্লীল রকমের নাচ।

লাল-নীল আলো আঁধারে ঠোঁটে শিশার পাইপ দিয়ে স্লো মোশনে ধোঁয়া ছাড়া যার নেশা। কখনওবা হাতে দামি বিদেশি মদের বোতল নিয়ে চুমো দেয়া তার ফ্যাশন। নামি-দামি ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই রমণী বাগে আনা ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীদের দিয়ে করান রমরমা দেহ ব্যবসা। এক কথায় ওয়েস্টার্ণ ধাঁচে চলাফেরা করা রূপের ঝলক দেখানো ডিজে নেহা নানান কুকর্ম ও অশ্লীলতার মধ্যেই ডুবে ছিলো।

সম্প্রতি রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি ডিজে নেহা। এই মামলাটি তদন্তের স্বার্থে এই নেহাকে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে একে একে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য বেরিয়ে আসছে। জানা যাচ্ছে, তার অন্ধকার জগতের যতো অপকর্মের গোপন খবর। তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, কেবল ডিজে নেহা নয় নেহার মতো এমন অনেক তরুণ-তরুণীই রয়েছে যাদের কর্মকাণ্ড একই রকমের, কেবল নামেই ভিন্ন।

নেহার টার্গেট ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণী:

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে অশ্লীল জগতে পা বাড়ানো নেহার টার্গেট ছিলো ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীরা। বিশেষ করে নামি দামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিকেই ছিলো তার বিশেষ আকর্ষণ। টার্গেটকৃতদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরিতে তার হয়ে একাধিক উশৃঙ্খল তরুণ-তরুণী মাঠ পর্যায়ে কাজ করতো। যাদেরকেও বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা দিতো ডিজে নেহা। শিশা পার্টি, মদ পার্টি এবং অশ্লীল নাচের আয়োজনে দাওয়াত পেত সমাজের উচ্চ বিত্তের সন্তানরা। যারা নেহার হাত ধরেই বেলাল্লাপনায় জড়িয়ে পড়ে।

শিশা লাউঞ্জ ও মদ পার্টি থেকে রমরমা দেহ ব্যবসা:

কুকর্মের কথিত মহারাণী নেহার কপাল খুলতো শিশা লাউঞ্জ ও মদের পার্টিতে। যে পার্টিতে যোগ দিতে আসা ধনী তরুণ-তরুণীরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতো। সেই সূত্র ধরে আকর্ষিত হয়ে যদি কেউ কাউকে একান্তে পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করতো তাকে ডিজে নেহার সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হতো। এই নেহাই টার্গেটকৃত তরুণ বা তরুণীকে ম্যানেজ করার কথা বলে চাহিদা প্রকাশকারীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতো। তার এই অবৈধ অর্থকড়ির খোঁজে নেমেছে গোয়েন্দারা।

নেহার অপরাধ নেটওয়ার্কিং:

ওয়েস্টার্ন স্টাইলে চলাফেরা করা নেহা খুবই চতুর প্রকৃতির রমণী। সে ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করতো। এই নেহার একাধিক টিম অভিজাত শ্রেণির ছেলে মেয়েদের টার্গেট করে তাদেরকে ডিজে পার্টি, শিশা লাউঞ্জ এবং মদের পার্টিতে নিয়ে আসতো। এ পার্টিগুলো সাধারণত অবৈধ বার বা লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হতো। এসব পার্টি বাবদ অবৈধ বার বা লাউঞ্জ ব্যবসায়ীরা বড় অংকের টাকা পেতো। নেহার মাঠ পর্যায়ের টিমে নামি দামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় উশৃঙ্খল শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে।

মাদক চক্র ও হোটেল রিসোর্টে হট কানেকশন:

ডিজে নেহার পার্টিতে মদের সাপ্লাই দিতো অবৈধ মাদক কারবারীরা। কেবল তা’ই নয় ভালো লাগা তরুণী-তরুণীদের একান্তে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের একাধিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো তার। ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা চক্রর সঙ্গেও এই সুন্দরী রমণীর যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুকসহ অনলাইন মাধ্যমে ফাঁদ:

ডিজে নেহা তার সঙ্গীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালাতো। এই তৎপরতায় ধনী পরিবারের কোনো তরুণ-তরুণী ফাঁদে পড়লেই কূটকৌশল খাটিয়ে তাকে অশ্লীলতায় জড়িয়ে ফেলা হতো।

বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বে নেহা বিপথে:

নেহার বাবা একজন মাঝারি স্তরের ব্যবসায়ী। থাকেন রাজধানীর আজিমপুরে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকায়। অন্যদিকে নেহার মা থাকেন মিরপুরে। দীর্ঘদিন যাবত এই বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। একরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে উঠে নেহা। পড়াশোনার দৌঁড়ও বেশি দূর নয়, স্কুলের গন্ডিতেই তার সমাপ্তি ঘটে। মেধাবী হলেও পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনায় এগুতে পারেনি সে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নেহা বিপথে যাওয়ার নেপথ্যে তার বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্য।

স্বামী তার লন্ডনে:

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কয়েক বছর আগে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে নেহার বিয়ে হয়। ওই প্রবাসী লন্ডনে গিয়ে নেহাকেও তার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, নানান অজুহাতে নেহা সেখানে যেতে পারছিলেন না। লন্ডনে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টাও নাকি করেছিলেন। তবে, নেহার বিয়ের বিষয়ে পুলিশ সন্দিহান।

উত্তরার ব্যাম্বো শুটে ৫ তরুণ-তরুণীর মদের আসর:

সম্প্রতি মদ পানের পর অস্বাভাবিকভাবে মারা যায় ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাধুরী এবং তার বন্ধু আরাফাত। এই ঘটনার আগে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে ব্যাম্বো শুট রেস্টুরেন্টে ৫ বন্ধু মিলে মদের আসর বসান। এই রেস্টুরেন্টে ফাস্টফুডসহ সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এমন স্থানে বৈধভাবে মদের আড্ডা বসানোর কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করেই প্রায় সময় এই রেস্টুরেন্টে বসতো মদের আসর। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেরিয়ে আসে উত্তরার এ রেস্টুরেন্টের অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য।

ঘটনাটি ঘটার আগে গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নেহার আমন্ত্রণে ফারাহ মাধুরী তার বন্ধু রায়হানসহ ছুটে যান রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ব্যাম্বো শুটে। সেখানে গিয়ে তারা নিজ উদ্যোগে আয়োজন করেন মদের পার্টি। পার্টির পর সেখানে থাকা ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাধুরীকে তার বন্ধু নিয়ে যান মোহাম্মদপুরের বান্ধবী তাফসীরের বাসায়।

সেখানে ওই রাতে মাধুরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরী। এর পর থেকেই ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মাধুরীর বাবা চট্টগ্রাম থেকে এসে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে একটি ‘ধর্ষণ’ মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এ ঘটনায় মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও বান্ধবী নুহাত আলম তাফসীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও তার সঙ্গে থেকে মদপান করা আরও এক সহপাঠী আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এরপর বেরিয়ে আসে উত্তরার সেই রেস্টুরেন্টে বসে মদ পানের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর মধ্যেই মামলা এজহারে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মারা যাওয়া আরাফাতের বন্ধু শাফায়াত জামিল।

যেভাবে গ্রেপ্তার হয় নেহা:

সংশ্লিষ্ট মামলার এজহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি ডিজে নেহাকে রাজধানীর আজিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোপন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেহার অপরাধ নেটওয়ার্কিংয়ে মাধ্যমেই উল্লেখ্য ৫ জন একে অপরে বন্ধুতে রূপান্তরিত হয়ে বলে জানা গেছে।

পুলিশ যা বললো:

আজ (০৬ জানুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ আরটিভি নিউজকে বলেন, প্রতিদিন ওয়েস্টার্ণ দামি দামি সব ড্রেস পড়ে বার ক্লাবে যেতো ডিজে নেহা। ব্যবহার করতো দামি ব্রান্ডের সব মেকআপ। আর এমন রূপের ঝলক দেখিয়ে আয়োজন করতেন ডিজে পার্টির। সেই পার্টিতে নিয়ে আসা হতো ধনী পরিবারের সন্তানদের। সেখান থেকে অনৈতিক কার্যকলাপ। এটাই ছিলো নেহার আয়ের উৎস।

গত শুক্রবার নেহাকে ৫ দিনের রিমান্ডে আনে পুলিশ। সে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে। পরিবার ও স্বামীর সঙ্গ দূরত্বের কারণে সে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

ডিসি আরও বলেন, রাজধানীতে যারা এধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে এই বিষাক্ত মদ কোথা থেকে এসেছে। নেহার সাথে আর কারা জড়িত তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সূত্র: আরটিভি অনলাইন।

Check Also

অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে ২৮ জনকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী রোমানা!

নায়িকা রোমানা স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফাঁদ পেতে এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে কোটি টাকারও …