এইচএসসির ফল পাননি ৬০ শিক্ষার্থী

পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগই যে পাস করছে, তা আগে থেকেই জানেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

তাই প্রকাশিত ফলে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জিপিএ ৫ প্রাপ্তি। ২০১৯ সালে যেখানে জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, ২০২০ সালে পেয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। এর মধ্যে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫ না পেয়েও এইচএসসিতে পেয়েছে ১৭ হাজার ৪৩ জন।

তবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ৬০ শিক্ষার্থীর এইচএসসির ফল আসেনি। টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা এসব শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতারা ‘টাকা খেয়ে’ ফরম পূরণ না করায় তারা ফল বঞ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলার চন্দ্রা তিন রাস্তার মোড় এলাকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের এসব শিক্ষার্থী গত রোববার কলেজ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছেন। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের এইচএসসির পরীক্ষা না নিয়েই পূর্বের ফলের ভিত্তিতে গত শনিবার অটোপাস করিয়ে দেয় সরকার। পরীক্ষার জন্য যারাই ফরম পূরণ করেছেন সবাই এবার পাস করে গেছেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফলবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে ফরম পূরণ করে দেওয়ার কথা বলে ১২ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোবারক হোসেন, প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন টুটুল ও সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন। শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছর জানুয়ারিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তারা। এর মধ্যে ৬০ শিক্ষার্থী দুই কিংবা তিন বিষয়ে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করেন। পরে ফরম পূরণ করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তরা প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন।

গত শনিবার এইচএসসির ফল প্রকাশ হলে শিক্ষার্থীরা ফল না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। অধ্যক্ষের কাছে তারা একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করে। অভিযুক্ত মোবারক হোসেন জানান, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের ফরম পূরণে চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু পারা যায়নি।
ফলবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার জানান। তিনি বলেন, কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য,২০২০ সালে ১১ শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১লা এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না। গত ৭ই অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।

কিন্তু আইনে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের বিধান থাকায় তা সংশোধন করে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত করতে হয়েছে, যা গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অনুমোদন পায়। গেল বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু তার আগেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত হয়ে যায় পরীক্ষা। শেষপর্যন্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় অটোপাশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অটোপাশের ক্ষেত্রে, অষ্টমের সমাপনী এবং মাধ্যমিকের ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Check Also

এইমাত্র পাওয়া: আবারও বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

করোনা সংক্রমণের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আরেক দফা বাড়ল। এই ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি …