অনুশকা-দিহানের এই ধরণের ঘটনা নিয়ে এবার যা বললেন ব্যা’রি’স্টার রুমিন ফারহানা!

আমা’র মা ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্ত;রের প্রথম মহিলা মহাপরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য, ঢাকা বিশ্ব;বিদ্যালয়ের সি;ন্ডি;কেট, সিনেট, একাডে;মিক কা;উন্সি;লের সদস্য এবং ডিন (শিক্ষা অনুষদ)। বাবা ছিলেন পুরো;দস্তুর রা;জনীতিবি;দ।

এত ক;থা লি;খছি শুধু এটুকু বো;ঝা;নোর জন্য যে অ’তি, অ’তি ব্যস্ত মানুষ ছিলে;ন তারা দু;জনই। কিন্তু স;ন্তা;নের ব্যাপা;রে ছিলেন পা;হা;ড়ের মত অ;টল। কোন দিন একটা ঘ;ন্টাও বা;ড়িতে একা থা;কতে হ;য়নি আ;মাকে। হোক না সেই গৃহ;কর্মী ১০/১৫ বছ;রের পুরা;নো।

মনে পড়ে না ছা;ত্রাব;স্থায় কোন দিন নিজে;র গা;ড়ীতে শুধু মা;ত্র ড্রা;ইভা’র দিয়ে পাঠানো হয়ে;ছে আ;মাকে। আমি যেই সম;য়ের কথা বলছি, যে পরিবা;রে আমি বে;ড়ে উঠেছি, সেখানে কা;জের লোক বা ড্রা;ইভা’র ছিল পরি;বারের সদস্যে;র মতো। তাদের কেউ কেউ আমা’র জ;ন্মের আগে থেকে আছে আমা’র পরিবা;রের সাথে, পরি;বারের সদস্য হয়ে। কিন্তু তারপরও বাবা-মা কোন;দিন সাহ;স করে;ননি তাদের হাতে আ;মাকে একা ছাড়ার।

মি;শনা;রি স্কু;লের ছা’ত্রী ছি;লাম আমি। বন্ধু বলতে হাতে গোনা ৫/৬ জন, সেই যে ব;ন্ধুত্বের সূচনা হয়ে;ছিল শৈ;শবের শুরুতে; সেই বন্ধু;ত্ব আজও অ;টল। এখনো বন্ধু বলতে তারাই। স্কুলে যে বন্ধু;ত্বের শুরু তা কিন্তু কে;বল দু’জন শি’শুর ব;ন্ধুত্বে আ’ট’কা পড়েনি। পরিবার;গুলোর মধ্যেও ছিল পারিবারিক বন্ধুত্ব। বন্ধুর বাসায় ‘ডে-স্পেন্ড’ ছিল আমাদের রেগুলার রুটিন। কিন্তু দিয়ে আসত বাবা নিয়ে আসত মা।

কোন;দিন একলা ছেড়েছে তা কল্পনাও করতে পারি না। কদাচিৎ কারও বাবা মা না পারলে যে বাসায় দাওয়াত সেই আন্টি-আ;ঙ্কেল ঠিক দায়িত্ব নিয়ে নিজ স;ন্তানের মত পৌঁছে দি;তেন আমাদের। আমা’র বাবার মজার একটা অভ্যাস ছিল। কোন কোন ‘ডে-স্পেন্ড’ এর শেষে ব;ন্ধুদের তাদের বাড়ি পৌঁছে দেবার সময় আ;ইস;ক্রিম খাওয়াতে নিয়ে যেতেন সবাইকে। সে ছিল আ;রেক রা;উ;ন্ড আনন্দ। কিন্তু কি সহ’জ, নি;র্মল আর পবিত্র।

গ্রুপ স্টাডি বস্তু;টার সাথে পরিচয় হয়েছে বি;শ্ববিদ্যা;লয়ে পড়তে গিয়ে। সেটাও ৫/৬ মিলে একটা গ্রুপ, হয় ক্লা’শের আগে আর না হলে ক্লা’শ শেষে ক্লা’শে বসে একসাথে পড়া। আমা;দের অনেক বন্ধু;ই তখন প্রে’ম করে। কিন্তু সেটাও একটা গ;ণ্ডির মধ্যেই, পারষ্পরিক সীমা;’রেখা মেনে।

আমি জানি এই লেখা কাউ;কে বিস্মিত করবে, কেউ ভ্রু কুঁচকে ভাববে কী’ বন্দীদশায় বড় হয়েছি আ;ম’রা। কেউ এটাও ভাবতে পারেন বাড়িয়ে বলছি আমি। মধ্যবিত্তের এখন বিত্তটুকু ছাড়া বাকি আর কিছু নেই, কিন্তু সেই সময়ে আম’রা যারা ঢাকায় এলিট একটা স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়ে;ছি;লাম তারা কিন্তু প্রায় একই ধর;ণের পরি;বার থেকে এসেছি;লাম। বিত্তটা মধ্যম মানের ছিল কিন্তু সাথে ছিল কয়েক প্র;জন্মের শিক্ষা, মূল্যবোধ, পারি;বারিক বন্ধন, ধ’র্মীয় ও নৈতিকতা বোধ। ধ’র্ম আর নৈতিকতার চর্চাটা জীবনে ছিল, দেখানেপনায় নয়। মোটা দাগে একই ধরণের আচরণ সব বন্ধুর পরিবারেই দেখেছি।

গভীর নি;রাপ;ত্তা বোধ নিয়ে বড় হয়েছি, নি;জেকে বন্দী মনে হয়নি কখনোই। আনন্দের তো কোন কমতি ছি;লনা শৈশবে। এখনো জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ভাব;তে বসলে তো কেবল শৈশবের আর কৈশোরের স্মৃ’তিই মনে পড়ে। আমাদের শৈশব আর কৈশোরে ফ্ল্যাট বাড়ির সূচনা হয়নি। ফ্ল্যাটের এক;জনের ঘাড়ে;র উপর আর একজনের নিঃশ্বা’স ফেলার বদলে বড় বাগান ঘেরা একত;লা বা বড়জো’র দোতলা বা;ড়িতে বড় হয়েছি সবাই। তার একটা ছাপও হয়ত ছিল আমাদের বেড়ে ওঠার উপর। আ;ভিজা;ত্যে, চিন্তা আর মনের প্রসারতায়। ধানমন্ডিতেই বাসা ছিল আমা’র প্রায় সব বন্ধুর , তাই দূরত্বও ছিলনা তেমন একটা। তবে তাই বলে যে চা;ইলেই রওনা হতে পারতাম তেমন নয়। দুই বাড়ির অ’ভিভাব;কের সম্মতিতে, উপস্থিতিতেই কেবল মাত্র যেতে পারতাম আম’রা।

সা’;সে;ক্স বিশ্ব;বিদ্যালয়ে যখন পড়তে যাই তখন আমা’র মা আমা’র জন্য যে হলে থাকার ব্যবস্থা ক;রেছিলেন সেটি ছিল অ’তি এক্স;ক্লু;সিভ ‘মু’সলি;ম, গার্ল;স, নন স্ম;কিং’ হোস্টেল। এর জন্য বাড়;তি অর্থ মা;কে গুন;তে হয়েছে, বাড়;তি ঝো;ক্কি পো;হাতে হয়েছে। আমি যখন ব্যারি;স্টারি করছি তখনও কেবল মাত্র নি;রাপ;ত্তার কথা চি;ন্তা করেই আমাকে লি;ঙ্কন্স;ইন থেকে ৫ মিনি;টের হাঁটা দূর;ত্বে কয়েক গু;ন বেশি খরচ করে হোস্টে;লে রাখেন। আমা’র মা নিজেও ষাটের দশকে যু’ক্তরা;ষ্ট্রের টপ রেঙ্কিং বিশ্ববি;দ্যালয় শি;কাগোর ছা’ত্রী ছিলেন। সুতরাং বিদে;শের স্টু;ডেন্ট লাইফ স’;ম্পর্কে খুব ভাল ধার;ণা ছিল তার।

তারা তাদের সা;ধ্যের বাইরে গিয়ে হলেও স;র্বোচ্চটা সন্তা;নের জন্য নি;শ্চিতের চেষ্টা করেছেন। তবে হ্যাঁ, তারপরও হয়তো বাবা-মা বিহীন প্রথম স্বাধীন জীবন আমি আমা’র মত ‘উপভোগ (!)’ করতেই পারতাম। কিন্তু ওই যে আ;জন্ম লা;লিত মূল্যবো;ধ, সেটি আমাকে হোস্টেল, ক্লাস আর ই;নের বাধ্যতা;মূলক ডিনা;রের বাইরে কিছু করতে দেয়নি। আশৈ;শব বাবা মা আমা;কে বিশ্বা’স করেছেন আর শিখি;য়েছেন কি করে বিশ্বা’সের ম’র্যাদা রাখতে হয়।

একজন সন্তান কেমন হবে, কী’ করবে, কী’ভাবে চলবে, তার চিন্তা;ধা;রা কেমন হবে, জীব;নকে সে কী’ভাবে দে;খবে, কী’ভা;বে যাপন করবে তার বী;জ বপন হয় অ’তি শৈশ;বেই, বাবা মা;য়ের হাত দিয়ে। জী;বন যা;পন একটা প;দ্ধতি যেটা শি’শু দেখে শেখে, বড় বড় লে;কচার শুনে নয়। আম’রা হ;য়তো ভা;বি শি’শু সন্তা;ন কিই বা বোঝে।

বলে রাখি তারা কিন্তু আ;পনার আমা’র চেয়ে কম বো;ঝে না। যে পিতার আয় হাজা;রের অ;ঙ্কে আর ব্যয় ল;ক্ষের ঘরে সে পরি;বারের স;ন্তান খুব ভাল বো;ঝে শু;ভ;ঙ্ক;রের ফাঁ;কিটা। যে উদাসীন আ;ত্মম;গ্ন বাবা-মা’র সময় হয়না সন্তা;নকে সময় দেবার, সে কো;থায় যায়, কার সাথে মেশে, তার বন্ধু বা;ন্ধব কারা সেই খবর রাখবার সেই সন্তা;নের চিন্তা, আচ;রণ আর কাজে;র দায়;ভা’র কি কেবল সেই সন্তানে;র? একজন মানু;ষের চি;ন্তা, কর্ম, আচরণ একদিনে তৈরি হয়না। পরি;বারের গ;ভীর ছাপ থাকেই সেখানে।

আমা’র মধ্য;বিত্ত বাবা-মায়ের অনেক বেশি সাম’র্থ্য, সাধ্য ছিল না, কিন্তু যতটুকুই ছিল, আমি খুব ভালো’ভাবেই জানি, ততটুকু এই শহরের বহু পরি;বারের নেই। চাই;লেও সবাই সবকিছু করতে পারবেন না, বুঝি সেটাও। আমা’র জীব;নের খুব গু;রুত্বপূর্ণ সময়ের একটা জার্নির যে কথাগুলো বলেছি সেই কথাগুলোর একটা প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে তখনকার বাবা-মায়েরা সন্তানদের প্রতি কতটা মনো;যোগী ছিলেন।

নিশ্চিত;ভাবেই এই শহ;রের অসংখ্য পরি;বারকে পরিবা;রকে প্রতিদিন কঠিন জীবনযু’দ্ধে নামতে হয়। সেই যু’দ্ধই হয়তো তাদেরকে সন্তানের প্রতি অনেক ক্ষেত্রেই অমনোযোগী করে তোলা। কিন্তু তাদে;র মনে রাখা উচিত যে সন্তানদের তারা পৃথিবীতে নিয়ে আসেন সেই সন্তানকে যথেষ্ট পরিমাণ কেয়ার দিয়ে করে তোলা তাদের অ’তি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তাদের বাবা মা হবার দিনটি থেকেই শু;রু হয়ে যায়।

দেশে একটা সুস্থ মুক্তবা;জার অর্থনীতিও নেই ব;হুবছর, আছে স্রেফ চু’রির অর্থ;নীতি, লুট;পাট;তন্ত্র। শুধুমা;ত্র টাকা থাকলেই এই সমাজে যে কেউ এখন একধরণের সম্মান পায়; টাকার উৎস নিয়ে এই সমাজে আর মা’থা ঘামায় না তেমন কেউ। তাই এখনকার অসংখ্য বাবা-মা বৈধ বা অ’বৈ;ধ, যে কোন পথেই হোক টাকা;র পেছনে ছুট;ছেন। ভু;লে যান তারা সন্তানদের কোয়ালিটি টাইম দেয়ার কথা,‌অবহেলা করেন তাদে;র প্রতি কর্তব্য;কেও।

ক;লাবাগা;নের মতো, এমনকি তার চাইতে আরও ভ;য়ংক;র সব ঘট;না ছড়ি;য়ে পড়া আমি দি;ব্যচ;ক্ষে দেখতে পাচ্ছি আ;মাদের সমাজে।

লেখক: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

Check Also

অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে ২৮ জনকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী রোমানা!

নায়িকা রোমানা স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফাঁদ পেতে এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে কোটি টাকারও …