অটোচালক বাবার স্বপ্ন পুরণের দিন আজ সিরাজের সামনে

অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই দেশ থেকে ভ’য়ানক দুঃসংবাদ পেয়েছেন ভা’রতের নবীন পেস তারকা মোহম্ম’দ সিরাজ। তার বাবা পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। সিরাজের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার নেপথ্যে অটোচালক বাবার বড় ভূমিকা ছিল। বাবাই ছিলেন সিরাজের বড় অনুপ্রেরণা।

হায়দরাবাদের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে সিরাজ যে ক্রিকেটার হবেন, সেটাই বিশ্বা’স করতে পারতেন না পরিবারের সদস্যেরা। শুধু তাঁর বাবা মোহাম্ম’দ গাউস ছে’লের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে যেতেন। অটোচালক বাবা ভাবতেন, আরো কয়েকটা অ’তিরিক্ত ভাড়া যদি খাটতে পারি, ছে’লেটাকে ভাল করে ক্রিকেট খেলাতে পারব। আজ বাবা নেই, তবে বাবা-ছে’লের সেই সংগ্রাম, সেই সাধনার ফল মেলবোর্নে ঐতিহাসিক বক্সিং ডে-তে টেস্ট অ’ভিষেক হচ্ছে মোহাম্ম’দ সিরাজের।

টেনিস বলের ক্রিকে’টে একাধিক ম্যাচ জেতানোর খবর পেয়ে সিরাজের বাবা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন স্থানীয় কোচিং ক্যাম্পে। অর্থাভাবে সেই কোচিং সেন্টারের খরচ চালানোও সম্ভব হত না। কিন্তু ছোটবেলার কোচ কে. সাইবাবা খুদে সিরাজের প্রতিভা দেখে বিনামূল্যে তাকে প্রশিক্ষণ দিতে রাজি হয়ে যান। সে দিন থেকেই শুরু হয় সিরাজের যাত্রা। যা স্বীকৃতি পাচ্ছে আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) মেলবোর্নে।

অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় নামা’র আগে জুতো ছিল না সিরাজের কাছে। অটোচালক বাবা সারা রাত ধরে অটো চালিয়ে প্রথম জুতো কিনে দেন সিরাজকে। সেই জুতো পরে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাবার পরিশ্রমকে যথার্থ সম্মান জানান সিরাজ। বাবার মৃ’ত্যুসংবাদ পেয়ে দেশে ফিরে আসার সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ পেসার। ভা’রতের টেস্ট ক্যাপ পরেই সম্মান জানাতে চান বাবার লড়াইকে।

সেই সুযোগ আজ এসে গেছে মেলবোর্নে। সিরাজের অ’ভিষেক ম্যাচ তাঁর ক্যাম্পের খুদে ক্রিকোটারদের দেখানোর জন্য জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়েছেন তার সাবেক কোচ সাইবাবা। ভা’রতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, “সিরাজের কাহিনি প্রত্যেককে অনুপ্রা’ণিত করে। আমি চাই খুদে ক্রিকেটারেরাও শিখুক, মনের জো’র কোথায় পৌঁছে দিতে পারে।”

২০১৮ সালে বিজয় হ’জারে ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি রঞ্জি ট্রফিতেও প্রচুর উইকেট নিজের ঝুলিতে ভরেছেন সিরাজ। এ বারের আইপিএলে ৯ ম্যাচে ১১ উইকেট পেয়েছেন তিনি। প্রথম বোলার হিসেবে আইপিএলে দু’টি মেডেন ওভা’র আদায় করে নেন কেকেআরের বি’রুদ্ধে। আট রানে তিন উইকেট নেন তিনি।

হায়দরাবাদ দলের অধিনায়ক ও সিরাজের রাজ্য দলের সতীর্থ তন্ময় আগারওয়াল কথায়, “প্র্যাক্টিস শেষ হয়ে গেলেও একা একা একটি স্টাম্প বসিয়ে বল করে যেত সিরাজ। ওকে কখনো ছুটি নিতে দেখিনি। বিশ্রামের দিনেও বাড়িতে থাকত না। বলত, বসে থাকলে বাবার স্বপ্নপূরণ কে করবে?” তন্ময় আরো বলেন, “সিরাজ একদম বদলায়নি। ওর বাবার মৃ’ত্যুর দিনেই ওকে ফোন করি। ও তখন সিডনিতে। জানতে চাই, ফিরবে কি না। পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, আমি ফিরে এলে বাবা কি খুশি হত? বলেছিল, আমি জানি, দেশের প্রতিনিধিত্ব করলে বাবার আত্মা সব চেয়ে বেশি শান্তি পাবে।”

Check Also

বিশ্বকাপের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করলো আর্জেন্টিনা

জুনে কোপা আমেরিকা হবে কি না, হলে কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনো সংশয় আছে। আর্জেন্টিনা …